হোম > সারা দেশ > নওগাঁ

দৃষ্টিহীনতার দেয়াল ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে নবম গ্রেডের চাকরি পেলেন শাকিল

নওগাঁ প্রতিনিধি

গতকাল রাতে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের হাত থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন শাকিল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

দৃষ্টিহীনতা তাঁর পথের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বারবার। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ভাইভা বোর্ড থেকে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। শেষ পর্যন্ত সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কৃষিবিষয়ক প্রকল্পে ‘সেকশন অফিসার’ পদে নবম গ্রেডে চাকরি পেয়েছেন নওগাঁর শাকিল হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের হাত থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন শাকিল হোসেন।

নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামের সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা শাকিলের সংগ্রাম শুরু শৈশব থেকেই। মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদলগাছীর বালুভরা উচ্চবিদ্যালয় ও বদলগাছী সরকারি কলেজের পড়াশোনা শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি শাকিল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে তাঁর ছোট ভাই সাব্বির ও বন্ধু গৌতম সহযোগিতা করেছেন। তাঁরা নিয়মিত শ্রুতিলেখক হিসেবে শাকিলের পড়াশোনায় সহায়তা করেছেন।

পড়াশোনা শেষ করে অন্য তরুণদের মতো শাকিলও চাকরির সন্ধানে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ভাইভা বোর্ডে গিয়ে বারবার বাদ পড়তে হয়েছে তাঁকে। তাঁর দাবি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার কারণে তাঁকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

একপর্যায়ে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির চেষ্টা ও দীর্ঘ সংগ্রামের কথা নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর কাছে তুলে ধরেন শাকিল। পরে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কৃষিবিষয়ক প্রকল্পে নবম গ্রেডের ‘সেকশন অফিসার’ পদে তাঁর নিয়োগের ব্যবস্থা হয়।

চাকরি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে শাকিল হোসেন বলেন, ‘নবম গ্রেডের একটি চাকরি পাওয়া আমার কাছে কল্পনার চেয়েও বড় ব্যাপার। আমার মতো একজন মানুষের জন্য এটি অনেক বড় পাওয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম আমার পাশে না দাঁড়ালে আজ আমার এই স্বপ্ন হয়তো বাস্তব হতো না। আমি তাঁদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।’

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল দায়িত্ব। শাকিলের মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে চেয়েছি। তাই তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস ছিল, প্রধানমন্ত্রী তাঁর কথা শুনে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। মাত্র সাত দিনের মধ্যে একজন সংগ্রামী তরুণের জীবনে এমন পরিবর্তন দেখে আমি আনন্দিত।’