হোম > সারা দেশ > নওগাঁ

আলতাদীঘি উদ্যান: নষ্ট হচ্ছে উপড়ে পড়া শালগাছ, চুরিও যাচ্ছে

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি 

সড়কের দুই পাশে পড়ে আছে ঝড়ে উপড়ে যাওয়া শালগাছ। সম্প্রতি আলতাদীঘি শালবন থেকে তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা

নওগাঁর ধামইরহাটে আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে ঝড়ে উপড়ে যাওয়া তিন শতাধিক শাল, আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস গাছ পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, লোকবলসংকটের কথা বলে এসব গাছ দীর্ঘদিন ফেলে রাখে বন বিভাগ। আর সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা বনের ভেতর থেকে এসব উপড়ে পড়া গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

পত্নীতলা উপজেলার পাইক

বান্দা বন বিট অঞ্চলের আওতায় ধামইরহাট ইউনিয়নের জয়জয়পুর এলাকায় ২৬৪ দশমিক ১২ হেক্টর এলাকা নিয়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে এই শালবন।

সরেজমিনে বনের পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর দিকে তাকালে দেখা যায়, বনের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে আছে অনেক গাছ। এগুলোর অধিকাংশ ডালপালা কাটা ও ছালবাকল তোলা। দীর্ঘদিন মাটিতে পড়ে থেকে গাছগুলো নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া বনের ভেতরে দীঘির পশ্চিম পাড়ে অর্ধশতাধিক মৃত শালগাছ দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেগুলোর ব্যাপারেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের উদাসীনতার কারণে এই মরা শালগাছগুলো আড়াই বছর ধরে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টির পানিতে ভিজে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা জানান, প্রাকৃতিক এই সম্পদ রক্ষা ও পর্যটনশিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আলতাদীঘি শালবনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে নজরদারি ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দুষ্কৃতকারী ও বনখেকোদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বনটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়

এক বাসিন্দা জানান, বন বিভাগের কর্মচারীদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্পর্ক রয়েছে। লোকবলসংকটের কথা বলে ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখে বন বিভাগ। এরপর সুযোগ বুঝে গভীর রাতে চলে গাছ চুরির মচ্ছব।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বন বিট কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, গত বছর ঝড়ে আকাশমনি, ইউক্যালিপটাস ও কিছু শালগাছ উপড়ে পড়েছিল। লোকবল ও শ্রমিকসংকটের কারণে তা কাটা সম্ভব হয়নি।

রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন নওগাঁর পাইকবান্দা রেঞ্জের বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম ফরহাদ জাহান বলেন, ‘গত বছর ঝড়ের কারণে বেশ কিছু গাছ মাটিতে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর একটি তালিকা করে রাজশাহী বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। গাছ চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

ইউএনও কাজী তাহমিনা সারমিন বলেন, ‘আলতাদীঘি শালবনের বিষয়ে নানা অভিযোগ এর আগে আমার কাছে এসেছে। কিন্তু শালবনের ভেতরে গাছ পড়ে নষ্ট এবং চুরির বিষয়ে বন বিভাগ কিছুই জানায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’