হোম > সারা দেশ > নওগাঁ

৮ মাসে গ্রেপ্তার ৪৬ ডাকাত: নওগাঁ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কে স্বস্তি

­­­নওগাঁ প্রতিনিধি

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় নওগাঁ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কে কমেছে ডাকাতি। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁর সাপাহার-চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে গত ৬-৭ মাসে কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। একসময় আতঙ্কের এই ২২ কিলোমিটার সড়কে এখন ছয়টি চেকপোস্ট, টহল ও বিশেষ অভিযানের ফলে ডাকাতি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরেও পোরশা উপজেলার বেজোড়া বাজারে ২০টি দোকানে একসঙ্গে ডাকাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে সেই ভীতি কেটে গিয়ে গভীর রাতেও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করছে, ব্যবসা-বাণিজ্যেও ফিরেছে স্বস্তি।

পুলিশি তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে নওগাঁর এসব সড়কে ডাকাতির মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল ১৬টি। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে, অর্থাৎ আগস্ট পর্যন্ত, এই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪টিতে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে এ পর্যন্ত নতুন করে কোনো সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। অভিযানে অন্তত ৪৬ জন পেশাদার ডাকাত ও অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে।

সম্প্রতি রাতে সড়কটি ঘুরে দেখা যায়, সাপাহার-চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দুপাশে ঝোপঝাড়, জঙ্গল ও আমের বাগানঘেরা যেসব স্থানে ডাকাতেরা অন্ধকারে অবস্থান নিত, সেখানে পুলিশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি পয়েন্টে সোলার লাইটের আলোয় সন্দেহভাজন যান ও ব্যক্তিদের তল্লাশি চলছে।

রাতের বেলায় দূরপাল্লার বা যাত্রীবাহী গাড়িগুলোকে এক জায়গায় জড়ো করে পুলিশের টহল দল পাহারা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে। পাশাপাশি একটি স্থানে পুলিশ ফাঁড়ি বসানো হয়েছে বলে জানা গেছে, যা অপরাধীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর থেকে পণ্য নিয়ে সৈয়দপুরগামী পিকআপচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাত-আট মাস আগেও সন্ধ্যার পর এ রাস্তায় গাড়ি চালাতে হাত-পা কাঁপত। এখন পুলিশ পাহারা দিয়ে পার করে দেয়, কোনো ভয় কাজ করে না।’

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন বলেন, গভীর রাতে রাজশাহী থেকে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে যাতায়াতের সময় আগে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। বর্তমানে পুলিশ চেকপোস্টে কয়েকটি গাড়ি একসঙ্গে করে নিরাপদে পার করে দেওয়ায় মাঝরাতেও স্বচ্ছন্দ্যে গাড়ি চালাচ্ছেন।

বেজোড়া বাজারের ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘আগে ডাকাত আতঙ্কে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই দোকানপাট বন্ধ করতে হতো। এখন পুলিশ নিয়মিত ডিউটি করায় রাত ১০-১১টা পর্যন্ত নির্ভয়ে ব্যবসা করছি।’

একই বাজারের সেলুন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ লালন বলেন, ‘ক্যাশ বাক্সের নিরাপত্তাহীনতা কেটে যাওয়ায় এখন আর রাতে দোকান চুরি বা ডাকাতির চিন্তায় ঘুম নষ্ট হয় না।’

পোরশা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমিত কুমার দাস বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সীমানার ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ছয়টি চেকপোস্টের মাধ্যমে যানবাহন পারাপার নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে নিয়ে এনেছে।’

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই রোডের অপরাধের ধরন স্টাডি করে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পোরশা থানায় জনবল, লজিস্টিক ও গাড়ি বাড়ানোর পাশাপাশি পূর্বের ডাকাতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে বিশেষ দল গঠন করা হয়। কয়েকটি ধাপে কাজ করার পর দেখা গেছে গত ৬-৭ মাসে এই সড়কে আর কোনো ডাকাতি হয়নি।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে আমরা প্রতিটি কৌশলগত পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করেছি। এই ধারাবাহিক অভিযান এবং টহলব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যেন কোনো অপরাধী চক্র মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। আমরা এই সড়কে ডাকাতির অধ্যায় স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর।’