নওগাঁর ধামইরহাটের কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার একর পাকা বোরো ধানের খেত। এমন বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
আজ বুধবার সকালে সরেজমিন উপজেলার আলমপুর, ইসবপুর, আড়ানগর, খেলনা ও ধামইরহাট ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, পানিতে ডুবে আছে খেত। কৃষকেরা দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে পাতিল, প্লাস্টিকের ড্রাম এবং কলার গাছ কেটে বানানো ভেলায় তুলছেন। তারপর সাঁতার কেটে সেসব ধান সড়ক বা উঁচু জায়গায় নিয়ে আসছেন। পানির নিচে ডুবে থাকার কারণে অনেক ধান পচে গেছে। কিছু ধানের শেকড় গজিয়ে গেছে।
কৃষকেরা জানান, মাঠের ধান পেকে কাটার উপযোগী হয়ে ওঠেছিল। কিন্তু ঈদের ব্যস্ততা আর শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারছিলেন না তাঁরা। এরই মধ্যে হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে খেতের সব ধান এক বুক পানির নিচে ডুবে গেছে। এখন বছরের খোরাকি আর ঋণের টাকা শোধ করবেন তা নিয়ে উদ্বেগে আছেন তাঁরা।
তালঝাড়ি এলাকার কৃষক রত্না রাণী বলেন, গত বছর স্বামীর মৃত্যুর পর বাসাবাড়িতে কাজকর্ম করে টাকা জমিয়ে সাত শতাংশ জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সব ধান পানিতে ডুবে গেছে। ঈদের কারণে শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে ছেলে এবং ভাসুরকে সঙ্গে নিয়ে ধান কাটতে এসেছেন।
পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্গা চাষি আজিজার রহমান বলেন, ‘দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধান লাগিয়ে ছিলাম। দুই দিন আগে ১৩০০ টাকা মজুরি দিয়ে একদল শ্রমিকদের সঙ্গে ধান কাটতে চুক্তিও করা হয়। তার আগেই সব ধান পানির নিচে তলিয়ে গেল। এখন অর্ধেক ধান দিতে চেয়েও সেই ধান আর কাটতে চাইছে না শ্রমিকরা। এখন ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়ছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঈদের কারণে ধানকাটা শ্রমিকেরা বাড়ি চলে যাচ্ছেন। এ কারণে ডুবে যাওয়া ধান নিয়ে কৃষকেরা বিপদে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে পরবর্তীতে আমন ধানের প্রণোদনার পাশাপাশি সরকারের দেওয়া কৃষক কার্ডের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে। এতে করে তাঁরা অনেকটাই লাভবান হবেন।’