• কাজ সম্পর্কে কিছুই জানেন না প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য।
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় দুটি গ্রামীণ হাটের উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র কাজ করে প্রকল্পের পুরো বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অনুন্নত হাটের উন্নয়নের জন্য প্রাপ্ত ১০ শতাংশ অর্থ থেকে উপজেলার মৈনম ও কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের জন্য ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ৯ জুলাই উপজেলা হাটবাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় মৈনম ইউনিয়নে চারটি এবং কাঁশোপাড়া ইউনিয়নে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।
মৈনম হাটে স্ট্রিট লাইট মেরামত ও স্থাপনের জন্য ৩ লাখ টাকা, পৃথক দুটি শেড নির্মাণে ৩ লাখ করে ৬ লাখ টাকা এবং হাটের অভ্যন্তরীণ নালা ও আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অন্যদিকে কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের সিংগীহাটে টয়লেট ও প্রস্রাবখানা নির্মাণে ২ লাখ টাকা, সিংগীহাট থেকে ফকিরপাড়া গ্রামের দুটি সড়ক নির্মাণে ২ লাখ করে ৪ লাখ টাকা, স্ট্রিট লাইট মেরামত ও স্থাপনে ৩ লাখ টাকা এবং নালা পরিষ্কারে ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সরেজমিন মৈনম হাট ঘুরে দেখা যায়, সেখানে আটটি খুঁটির ওপর একটি শেড নির্মাণ করা হয়েছে এবং দুটি নতুন স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। হাটের অন্য কোথাও দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ চোখে পড়েনি।
স্ট্রিট লাইট মেরামত ও স্থাপন প্রকল্পের সভাপতি মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান। দুটি শেড নির্মাণের পৃথক প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য সুদেব চন্দ্র ও আমজাদ হোসেন।
জানতে চাইলে ইউপি সদস্য সুদেব চন্দ্র বলেন, প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। শুধু কাগজপত্রে তাঁর কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এ জন্য চেয়ারম্যান তাঁকে ৩ হাজার টাকা দিয়েছেন। একই ধরনের অভিযোগ করেন আরেক প্রকল্পের সভাপতি আমজাদ হোসেন। তাঁর ভাষ্য, প্রকল্পের সভাপতি হওয়ায় তাঁকে ৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালামও একই দাবি করেন। মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, হাট দুটির কাজ সঠিকভাবে শেষ হওয়ায় প্রকল্পের সভাপতিদের অনুকূলে অর্থছাড় দেওয়া হয়েছে।