হোম > সারা দেশ > নওগাঁ

কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

­­­নওগাঁ প্রতিনিধি

শামীম সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁয় কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় গৃহবধূ হালিমা খাতুন হত্যার দায়ে স্বামী শামীম সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত নওগাঁ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান এ রায় দেন।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দোহালী কোয়ালীপাড়া গ্রামের শামীম সরদারের সঙ্গে হালিমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা ঢাকায় বসবাস করতে শুরু করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, হালিমা একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিলে শামীম সেই সন্তানকে মেনে নিতে অস্বীকার করেন এবং স্ত্রী-সন্তানের প্রতি অবহেলা শুরু করেন। পরে শামীম মাঝে মধ্যে স্ত্রী হালিমাকে দেখতে গেলেও তাঁদের মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। হালিমার বাবা-মা স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে যেতে বললে শামীম বিভিন্ন অজুহাত দেখান।

মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর শামীম হালিমার পরিবারকে ফোন করে তাঁকে গ্রামের বাড়ি মহাদেবপুরে পাঠিয়ে দিতে বলেন। হালিমার পরিবার তাঁকে একা পাঠাতে রাজি না হওয়ায় ২৭ ডিসেম্বর সকালে শামীম শ্বশুরবাড়িতে যান। সন্তানকে সেখানে রেখে তিনি হালিমাকে নিয়ে মহাদেবপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

মহাদেবপুরে নেওয়ার পর মেয়ের পরিবার হালিমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে শামীম বিভিন্ন তালবাহানা করেন। তিনি বলেন, হালিমা কাজে ব্যস্ত আছেন।

পরবর্তীতে ২৯ ডিসেম্বর নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের কিশোরীপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে হালিমার গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গলা কাটা এবং মুখ ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ হালিমার লাশ শনাক্ত করেন।

ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্যরা শামীমের খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, লাশ উদ্ধারের পর থেকেই তিনি পলাতক। এ ঘটনায় হালিমার বাবা বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে ৩০২/২০১ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. শাহরিয়ার। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. এমরান হোসেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘এই রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। ক্ষতিগ্রস্তরা ন্যায় বিচার পেয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’