হোম > সারা দেশ > নওগাঁ

বদলগাছীতে সারসংকটের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তার অনৈতিক চাপের অভিযোগ

প্রতিনিধি বদলগাছী (নওগাঁ)

কর্মকর্তা--সার কালোবাজারে দেওয়ার জন্য আলম ট্রেডার্সকে চাপ দেয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকার। ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর বদলগাছীতে আউশ ধানের চারা রোপণের মৌসুমে সারসংকট ও বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় এক সার ডিলারকে ৫০ বস্তা সার দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি চাপ দেননি; সুযোগ থাকলে সার দিতে বলেছিলেন।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার সরবরাহ থাকার কথা থাকলেও বাজারে নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও সার মিললেও বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি সিন্ডিকেট কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বদলগাছীতে বিসিআইসি ডিলার ১০ জন এবং বিএডিসি ডিলার ১৯ জন। উপজেলার আট ইউনিয়নের ৭২টি ওয়ার্ডে ৭২ জন খুচরা সার বিক্রেতা রয়েছেন।

উপজেলায় বছরে ইউরিয়া সারের চাহিদা ৬ হাজার ২৯০ মেট্রিক টন। টিএসপির চাহিদা ১ হাজার ৬১৮ মেট্রিক টন, ডিএপির ৪ হাজার ১০০ মেট্রিক টন এবং এমওপির ২ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন।

সরকার নির্ধারিত কৃষকপর্যায়ের দামে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রতি কেজি ২৭ টাকা। ডিএপি প্রতি কেজি ২১ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকা।

কৃষি--বদলগাছী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বাস্তবে এসব সার কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। এতে সার পাওয়া নিয়ে ভোগান্তির পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এরই মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের অনৈতিক হস্তক্ষেপ, যা পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তুলছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বদলগাছী সদরের মেসার্স আলম ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক মনোরঞ্জনকে একজনের জন্য ৫০ বস্তা সার দিতে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক।

মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ করিম আলম বলেন, ‘উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকার আমার ম্যানেজারকে ফোন করে বলেন, একজন যাবে, তাকে ৫০ বস্তা সার দিতে হবে। কিন্তু আমি সার দেব না বলে জানিয়ে দিয়েছি।’

মাসুদ করিম আলমের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে কৃষি অফিস বিভিন্ন বিষয়ে আলম ট্রেডার্সের ওপর চাপ দিচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকার বলেন, ‘আমি চাপ প্রয়োগ করিনি। বলেছি, যদি সুযোগ থাকে, তাহলে যেন ৫০ বস্তা সার দেওয়া হয়।’

সদর ইউনিয়নের কৃষক নাসির, টগর ও হারুন বলেন, সার নিতে ডিলারের কাছে গেলেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। জমি চাষের সময় সার খুঁজতে ডিলারের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হচ্ছে বলেও জানান তাঁরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। দ্রুত সার সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেবেন। তবে সজল সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

উপজেলা সার ও বীজ কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তার সার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের কাজে জড়িত থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

স্থানীয় কৃষকেরা সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।