হোম > সারা দেশ > নওগাঁ

সৌদিতে নিহতদের পরিবারে প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা, মরদেহের অপেক্ষায় স্বজন

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারগুলোকে প্রাথমিক অনুদানের টাকা তুলে দেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১১ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার। রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই আত্রাই যেন এক শোকের নগর। সন্তান হারানোর বেদনায় নির্ঘুম রাত কাটছে স্বজনদের। প্রশাসন বলছে, মরদেহ দ্রুত দেশে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে নিহতদের প্রতি পরিবারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতি পরিবারকে আরও ৩ লাখ টাকা করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান।

মনিরুজ্জামান আরও বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এর জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়তো কিছুদিন সময় লাগবে। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে যেন দ্রুত মরদেহগুলো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।’

নিহতদের স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে খোরদাম শহরের ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। সারা রাত কাজ করে ওই সময় শ্রমিকেরা ঘুমাচ্ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গেট বন্ধ থাকায় কেউ বের হতে পারেননি। এতে ১৬ জন মারা যান।

মধ্যবোয়ালী গ্রামের মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সন্তান মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে চোখে আর ঘুম নেই বাবা। কখন সন্তানের মরদেহ আসবে। তাকে শেষ বারের মতো এক নজর দেখতে মনটাকে আর স্থির রাখতে পারছি না।’

গন্ডগোহালী গ্রামের মোহন ও সুমনের বাবা গোফ্ফার প্রামানিক বলেন, ‘আপনারা যত দ্রুত পারেন আমাদের সন্তানদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করেন। সন্তানদের মুখ দেখার অপেক্ষার আমাদের সময় যেন আর কাটে না।’

একই গ্রামের কলি আহম্মেদের মামা নুরউদ্দীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আগুনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্বপ্নগুলোও পুড়ে ছাই হয়ে গেল গো বাবা’

ডুবাই গ্রামের সুমনের ভাই সজীব বলেন, ‘বাড়িতে এসে ভাইয়ের বিয়ে করার কথা ছিল। অথচ এখন ফিরে আসবে কফিনে। এই কষ্ট স্রষ্টা যেন কাউকে না দেন।’