হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

দুই কিশোরের বর্ণনায় কলেজছাত্র শাওন হত্যা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে গিয়ে ‘কিশোর গ্যাং’-এর কবলে পড়েন। ব্রহ্মপুত্র নদ সাঁতরে একজন বেঁচে ফিরলেও গত শুক্রবার রাতে নূরুল্লাহ শাওন (২৬) নামের অন্যজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেদিন ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কী হয়েছিল, কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো, এ নিয়ে আদালতে দুই কিশোর জবানবন্দি দিয়েছে।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে ওই কিশোরেরা জবানবন্দি দেয়।

জানা গেছে, এ ঘটনায় ছয় কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে এক কিশোরকে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। অন্য পাঁচ কিশোরকে গতকাল সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে দুজন জবানবন্দি দেয়। তাদের একজন ১৪, অন্যজন ১৫ বছর বয়সী।

আদালতে দেওয়া দুই কিশোরের জবানবন্দির বরাতে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, দুই বন্ধু ব্রহ্মপুত্র নদপাড়ে বেড়াতে গিয়ে কিশোর দলটির সামনে পড়েন। দুজন সেখানে কেন গিয়েছেন, এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে দলটি। বেড়াতে যাওয়ার কথা বললে যা আছে বের করতে বলে দুজনকে। এ সময় একজন নৌকাভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই বলে জানান। শাওনের সঙ্গে একটি ফিচার ফোন এবং তাঁর বন্ধুর সঙ্গে একটি স্মার্টফোন ছিল। এ সময় দলের সদস্যরা দুজনকে মারধর শুরু করে। দুজন প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দেন। একজন ব্রহ্মপুত্র নদ সাঁতরে বেঁচে ফেরেন।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নদের পাশ ধরে কিছু দূর দৌড়ায় শাওন। তাঁর পিছু নেয় দলটির কয়েকজন সদস্য। শাওন সাঁতার জানতেন না। কিশোর দলটির সদস্যদের ধাওয়ার একপর্যায়ে কোনো উপায় না দেখে ব্রহ্মপুত্র নদে ঝাঁপ দেন শাওন। কিন্তু নদ খননের ফলে গভীর থাকায় সাঁতার না জানা শাওন তলিয়ে যেতে থাকেন। ওই সময় দলটির সদস্যরা পানি থেকে তাঁকে তোলার জন্য এগিয়ে আসেনি। একজন কিশোর আবার বলেছে, মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শাওনকে তোলার সুযোগ পায়নি তারা। পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে দলটির সদস্যরা পালিয়ে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কিশোর দলটি কত দিন ধরে এ ধরনের কাজ করছিল, তা জানা যায়নি। তাদের নামে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ডও নেই। তারা দলিত সম্প্রদায়ের শিশু। আদালতে দুজনের জবানবন্দি শেষে সবাইকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সময়ে ময়মনসিংহে ছিনতাইসহ অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। সেই লক্ষ্যে পুলিশও কাজ করছে। কিন্তু অপরাধীরা দ্রুত জামিনে বের হয়ে পুনরায় সেই একই কাজ করছে।

নিহত নূরুল্লাহ শাওন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামে।

দীপু হত্যা: ‘মূল হোতা’ বাবলু গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর

চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, ত্রিশালে চালকদের বিক্ষোভ

ময়মনসিংহে জমি নিয়ে বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা

মাউশির কর্মচারীর সাততলা বাড়ি, স্ত্রীর নামেও বাড়িসহ বিপুল সম্পদ

ছাত্রদের ও এমপির আলটিমেটামের মুখে শাওন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৬

ময়মনসিংহে শাওন হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে রাত ৮টা পর্যন্ত আলটিমেটাম

গফরগাঁওয়ে ভাষাশহীদ জব্বারের বাড়িতে মানুষের ভিড়

ময়মনসিংহে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

খসে পড়ছে পলেস্তারা, সংস্কারে উদ্যোগ নেই