ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় গাদাগাদি করে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে শিশুদের। ৬৪ শয্যার ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১০৪ শিশু। এতে চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন রোগীর স্বজনেরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২৩ শিশু। একই সময়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ২০ শিশু। এ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি জেলার তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩৪০ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ২০৩ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৩ শিশুর।
ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। হামে আক্রান্ত তিন সন্তানকে নিয়ে গত রোববার হাসপাতালে ভর্তি হন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজিয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ডে রোগীর চাপ এত বেশি যে ঠিকমতো থাকা যায় না। চিকিৎসকদেরও সহজে পাওয়া যায় না। প্রতিদিনই আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর খবর শুনতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকেরা বলছেন, বাড়িতে নিয়ে সেবা করলেও মাস দুয়েকের মধ্যে ভালো হয়ে যাবে। তাহলে হাসপাতালে আনার প্রয়োজন কী ছিল? তা ছাড়া এখানে আইসিইউ সুবিধা নেই, ওষুধের সংকট রয়েছে, বাথরুমের অবস্থাও খুব খারাপ।’
স্বজনদের অভিযোগ, আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে ভর্তি হওয়ার পরপরই ডাক্তাররা দেখার কথা। কিন্তু তাঁদের পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্বজনেরা তো চিকিৎসকদের সঙ্গে কোনো কথাই বলতে পারে না। ওষুধের সংকটের পাশাপাশি বাথরুমের একেবারেই খারাপ অবস্থা। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা এখানে খুবই কঠিন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান শয্যার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি রাখতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।