শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে নিহত হওয়ার তিন দিন পর এক রাজমিস্ত্রির মরদেহ ফেরত দিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দরে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক শেষে এই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত রাজমিস্ত্রির নাম মনির হোসেন (৪৩)। তিনি জেলার শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের পশ্চিম খাড়ামোড়া গ্রামের মৃত মুনসের আলীর ছেলে।
মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, মনিরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর সেখান থেকে উদ্ধার করে শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইদুর রহমান বলেন, মনির আহত অবস্থায় সীমান্তে ভারতীয় অংশের ঢালু এলাকায় পড়ে ছিলেন। খবর পেয়ে সোমবার রাতে তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে ঢালু থানার পুলিশ। এরপর গত মঙ্গলবার ওই দেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়ার আগে মনির ঠিকানা বলে যাওয়ায় তাঁর পরিবারকে মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় বলে জানান সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ভারতের ঢালু থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, মনির সপরিবারে ঢাকায় থাকতেন। সেখানে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সোমবার রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় শ্রীবরদী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তাঁর পরিবার।
নিহতের ছোট ভাই মিজানুর রহমান বলেন, ‘সোমবার রাত থেকে ভাই নিখোঁজ হয়। আমাদের এলাকার গরুর রাখালদের বিএসএফ ভাইয়ের ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল তাঁকে চেনেন কি না। পরে রাখালদের মাধ্যমেই আমরা ভাইয়ের সন্ধান পাই।’