ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়ে নিজেরাই এজেন্ট সেজে বসে থাকা ও ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট প্রদানে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বিরুনীয়া দাখিল মাদ্রাসা ও কংশেরকূল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে এই ঘটনা দেখা গেছে।
বিরুনীয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বুথে এজেন্ট পরিচয়ে বসে আছে কয়েকজন যুবক। কিন্তু তাদের পরিচয়পত্রে লেখা নেই নিজের নাম বা কোন প্রার্থীর এজেন্ট তার বিষয়ে কিছু। শুধু প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর দেওয়া আছে।
এ বিষয়ে বিরুনীয়া কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আসলে, আমি একটু অসুস্থ্যবোধ করছিলাম তাই খেয়াল করিনি।’ এ সময় সংবাদকর্মীদের সামনেই এজেন্টদের নিজেদের প্রতীকের নাম লিখতে অনুরোধ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, আসলে এই কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্ট ও সমর্থকেরা অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়ে নিজেরাই এজেন্ট সেজে বসে আছে। প্রিসাইডিং অফিসার তাদের সহযোগিতা করেছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনের হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম মুঠোফোনে বলেন, ‘অনেক কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দিয়ে এগুলো করছে ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকেরা। এটা প্রহসনের নির্বাচন।’
এদিকে উপজেলার কংশেরকূল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে হরিণ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ায় সহকারী প্রিসাইডিং ও দুজন পোলিং অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘প্রকাশ্যে ভোট প্রদানে বাঁধা না দেওয়ার অভিযোগে কংশেরকূল উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রিসাইডিং ও দুজন পোলিং অফিসার কে বরখাস্ত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিরুনীয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’