মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার হাটলক্ষীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালের পশ্চিম পাশে ধলেশ্বরী নদীর তীরে সরকারি জায়গা দখল করে নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে কাজ চললেও দখলদারদের ভয়ে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না।
আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালসংলগ্ন নদীর পাড় ঘেঁষে একটি স্থাপনার নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণাধীন স্থাপনাটি তীরবর্তী সরকারি জায়গায় হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। উচ্ছেদের পর জায়গাটি দীর্ঘদিন ফাঁকা ছিল। বিকেলে সেখানে শহরের অনেক মানুষ নদীর পাড়ে ঘোরাঘুরি ও সময় কাটাতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদীর তীরের খোলা জায়গা দখল হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও বিনোদনের পরিবেশও সংকুচিত হবে। সরকারি জায়গায় কার অনুমতি নিয়ে নির্মাণকাজ চলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয় একটি বাল্কহেড জাহাজ মালিক সমিতির সংশ্লিষ্টতার কথা বললেও সংগঠনটির সহসভাপতি মো. আব্দুল জব্বার তা অস্বীকার করেছেন।
আব্দুল জব্বার বলেন, ‘এখানে আগে আমাদের একটি ঘর ছিল। সরকার সেটি ভেঙে দেওয়ার পর আমরা অন্য জায়গায় অফিস ভাড়া নিয়েছি। শুনেছি এখানে নতুন দোকান নির্মাণ হচ্ছে। তবে কারা নির্মাণ করছে, তা আমাদের জানা নেই।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগেও এখানে নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা ছিল। সরকার সেগুলো উচ্ছেদ করেছে। এখন আবার দখল শুরু হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অন্যরাও নদীর পাড় দখলে উৎসাহিত হবে। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেন না।’
মুন্সিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, ‘যেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে আমাদেরও কিছু জমি রয়েছে। তবে মূল অংশটি বিআইডব্লিউটিএর। আমরা ইতিমধ্যে লোক পাঠিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। বিষয়টি তাদের অবহিত করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক সহায়তা চাওয়া হলে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করা হবে।’