মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে আনার নামে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে আড়িয়ল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. তোফাজ্জল শেখের বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৬ জুলাই আড়িয়ল ইউনিয়নের নিতিরা গ্রামে মোবাইল চুরির সন্দেহে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় টঙ্গিবাড়ী থানা-পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুজনকে ছাড়িয়ে আনার কথা বলে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কয়েক দফা টাকার অঙ্ক নিয়ে দর-কষাকষি করেন ইউপি সদস্য মো. তোফাজ্জল শেখ। প্রথমে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা, পরে ১ লাখ টাকা দাবি করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে ইউপি সদস্য তোফাজ্জল শেখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে থানায় যান এবং নিবিড় নামে এক ব্যক্তির কাছে ৭০ হাজার টাকা দেন। এ ঘটনার একটি অডিও রেকর্ডিং রয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।
ইউপি সদস্য মো. তোফাজ্জল শেখ বলেন, ‘আমি টাকা নিয়ে রাতে থানায় গেছি। নিবিড়কে টাকা দেওয়া হয়েছে। ওসি পেয়েছেন কি না, তা আমি জানি না।’
এদিকে নিবিড় বলেন, ‘ঘুষের টাকার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’
টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামীম আহমেদ বলেন, ‘লেনদেনের বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। তোফাজ্জল মেম্বার কিসের টাকা কার সঙ্গে লেনদেন করেছেন, সেটা তিনিই বলতে পারবেন।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, মোবাইল চুরির সন্দেহে আটক কিশোরকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে সোপর্দ না করে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন ইউপি সদস্য তোফাজ্জল শেখ। পরে ওই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন জনপ্রতিনিধি যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেন এবং পরে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে আনার নামে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার কোথায় পাবে।