হোম > সারা দেশ > মেহেরপুর

গাংনীতে পরিত্যক্ত ভবনে এক যুগ ধরে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি 

হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি পরিত্যক্ত ভবনে দীর্ঘদিন ধরে চলছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনটি এক যুগ আগে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সেখানেই চলছে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা সেবা। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে এবং রড বেরিয়ে আসায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন রোগী, স্বজন ও চিকিৎসক-কর্মচারীরা। উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার অন্যতম ভরসাস্থল এ হাসপাতালটি।

সম্প্রতি হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনটির দেয়াল ফেটে গেছে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। এরই মধ্যে ভবনটিতে রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। রোগীরা আতঙ্কের মধ্যেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভবনটিতে আলাদা পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড থাকলেও নারী-পুরুষ গাদাগাদি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

াসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুল হাকিম বলেন, ‘পরিত্যক্ত ভবনে আমরা চিকিৎসা নিচ্ছি। খুব ভয় লাগে, যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দেয়ালে ফাটল ধরেছে, মাঝে মাঝে পলেস্তারা খসে পড়ে।’

আব্দুল মণ্ডল নামের আরেকজন বলেন, ‘ভবনটির করুণ দশা। চিকিৎসা নিতে এসে যদি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে দায়ভার কে নেবে? জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসা নিচ্ছি। ডাক্তার-নার্সরাও ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন।’

নার্সিং সুপারভাইজার আমেনা খাতুন বলেন, ‘এই পরিত্যক্ত ভবনটিতে চিকিৎসা দিতে গিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকি কখন যেন দুর্ঘটনা ঘটে। বর্ষা মৌসুমে আরও বেশি ভয় লাগে।’

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. একরামুল হক আজকের পত্রিকাকে আরও বলেন, পুরাতন ভবনটিতে আইসোলেশনসহ মোট ৩১টি শয্যা রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ পুরুষ ওয়ার্ড। হামের উপসর্গ বা অন্য কোনো জটিল রোগ নিয়ে কোনো রোগী ভর্তি হলে তাঁদের জন্য আলাদাভাবে শয্যা প্রস্তুত করা হয়। এ ধরনের জটিল রোগী আপাতত এখানে নেই।

হাসপাতালের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

তিনি বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। ভবনের ঝুঁকির বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রোগীরা অত্যন্ত ঝুঁকি মধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

গাংনী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শামীম রেজা বলেন, ‘গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২০১৩ সালে এলজিইডি, পৌরসভা ও ডিপিএইচই মিলে একটি পরিদর্শন দল গঠন করা হয়েছিল। সেই দল সে সময় পুরাতন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সেটা চালু রেখেছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানাব।’

মেহেরপুরের মুজিবনগরে ৭ জনকে বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে ৭ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধ

গাংনীতে ফসলের মাঠ থেকে ৬টি ট্রান্সফরমার চুরি, সেচসংকটে চাষিরা

মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে ৪ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ

প্রচণ্ড গরমে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা, গাংনীতে জনজীবন বিপর্যস্ত

সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় বিদ্যালয় মাঠ, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা

বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদনে সফল গাংনী পৌরসভা, উপকৃত কৃষক ও পরিবেশ

গাংনীতে কুকুরের কামড়ে আহত ১৭, ভ্যাকসিন নেই হাসপাতালে

তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ, কঠোর অবস্থানে বিজিবি ও স্থানীয়রা

বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের