ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে মানিকগঞ্জে ফুটবল উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার জয় প্রত্যাশায় জেলার অন্তত ১০০টি স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখা, ভূরিভোজ ও প্রীতিভোজের আয়োজন করেছেন সমর্থকেরা। আজ রোববার দিবাগত রাত ১টায় ফাইনাল খেলা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় এসব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ক্লাব, সামাজিক সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জেলার অন্তত ১০০টি স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখা এবং ভূরিভোজ আয়োজনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে গান-বাজনা ও ব্যান্ড দলের ব্যবস্থাও রয়েছে। কোথাও গরু, কোথাও খাসি জবাই করা হয়েছে; আবার কোথাও মুরগি কিংবা ইলিশ-খিচুড়ির আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যা নামার আগেই বিভিন্ন আয়োজনে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে।
সবচেয়ে বড় আয়োজনগুলোর একটি ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। সেখানে তিনটি পৃথক স্থানে শত শত দর্শকের জন্য বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি গরু ও খাসির মাংস দিয়ে খিচুড়ির আয়োজন রয়েছে।
বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য ভোজের আয়োজন করেছেন।
রাথুরা গ্রামের যুবসমাজ ও আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাব স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর পাশাপাশি কয়েক শ মানুষের জন্য খাসির মাংস ও খিচুড়ির ব্যবস্থা করেছে।
বানিয়াজুরী প্রগতিশীল যুবসমাজের উদ্যোগে ও আর্জেন্টিনার সমর্থক মোমাজ্জেদ হোসেন শিমুর আর্থিক সহযোগিতায় বারাঠা উত্তরণ সংঘ-সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে দুটি খাসি ও একটি গরু জবাই করে ভূরিভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বড় পর্দায় খেলা দেখারও আয়োজন রয়েছে।
মোমাজ্জেদ হোসেন শিমু বলেন, ‘আর্জেন্টিনা ফাইনালে খেলবে, এমন প্রত্যাশা থেকেই এই আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। দল চ্যাম্পিয়ন হলে আরও দুটি গরু জবাই করে বড় পরিসরে বিজয় উৎসব করব।'
মানিকগঞ্জ আর্জেন্টিনা ফ্যানস অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম নীতিনির্ধারক আব্দুর রাজ্জাক নান্নু বলেন, এবার মানিকগঞ্জে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আয়োজন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়। ফুটবলকে কেন্দ্র করে এটি এখন সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
সংগঠনের কার্যকরী সদস্য মীর তপু রায়হান বলেন, ফুটবলের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষকে একত্র করা। খেলা উপলক্ষে গ্রামের মানুষ একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন, এটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
ঘিওর উপজেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রথম শ্রেণির রেফারি শেখ ফরিদ বলেন, ‘বিশ্বকাপ ঘিরে এমন স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজন ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসারই প্রতিফলন। বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখা ও ভূরিভোজের আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় করে। আমার এলাকায় দুটি বড় পর্দায় খেলা দেখা ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।'
মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন আনসারী বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, বিশ্বকাপ এখানে শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়, এটি সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘিওরের রাথুরা সমাজকল্যাণ সমিতি, মাইলাঘী তরুণ সংঘ, রাধাকান্তপুর ফাইভ স্টার ক্লাব, জাবরা, পুটিয়াজানি সমাজ, শতদল সংঘ, এলিভেন ব্রাদার্স, তাড়াইল বিপ্লবী ক্রীড়া চক্র, বালিয়াখোড়া গ্রামবাসী, বাষ্টিয়া নবজীবন ক্লাব, মৌহালী ক্রীড়া সংঘ ও মৌহালী ক্লাব; দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠী, উলাইল যুব সংঘ, দৌলতপুর সদর বাজার বণিক সমিতি ও চকমিরপুর, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া, হাটিপাড়া ক্লাব, সরুপাই ব্যবসায়ী সমিতি, বেতিলা ও মিতরা, সিংগাইর সদর, চারীগ্রাম ও আজিমনগর, সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডিঙ্গী, ধানকোড়া ও হরগজ, শিবালয় উপজেলার আমডালা, তেওতা, বড়ঙ্গাইল ও টেপরা এবং হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা, ইছাখালী ও বাহাদুরপুরসহ জেলার অন্তত ১০০টি স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখা এবং ভূরিভোজের আয়োজনের খবর পাওয়া গেছে।
সমর্থকেরা আশা করছেন, বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনা আবারও ফুটবলপ্রেমীদের উল্লাসে ভাসাবে। সেই জয় উদ্যাপনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও বড় পরিসরে বিজয় উৎসবের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।