বর্ষার মেঘলা সন্ধ্যা। বাইরে ছিল ভ্যাপসা গরম, আর মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে বেজে উঠল দ্রোহ, সংগ্রাম ও মুক্তির গান। ‘কারার ঐ লৌহ-কবাট, ভেঙে ফেল কর রে লোপাট’—সুরের আবেশে যেন ফিরে এল জুলাইয়ের চেতনা।
দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। দর্শকদের করতালি আর শিল্পীদের পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ‘গানে গানে জুলাই’ শীর্ষক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সোমবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজমুল হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) খায়রুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, জেলা কালচারাল অফিসার মোছা. মোখলেছা হিলালী, জাসাস জেলা কমিটির সদস্যসচিব শামীম বিশ্বাসসহ জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা।
জুলাইয়ের চেতনার গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, জুলাইয়ের চেতনা শুধু একটি সময়ের স্মৃতি নয়, এটি স্বাধীনতা, মানবিক মূল্যবোধ, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রেরণা। নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই।
পরে শুরু হয় সংগীত পরিবেশনা। এতে অংশ নেন জেলার বরেণ্য শিল্পী শামীম বিশ্বাস, পারভীন আক্তার বীথি, ইমন খান, ফরিদা ইয়াসমিন মায়া, শাহনাজ পলি, বীথি মনি, সুমন হোসেন ও রতন সাহা। এ ছাড়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী বিউটি আচার্য্য, জুঁইরিয়া ইসলাম নূপুর ও প্রশিক্ষণার্থীরাও পরিবেশনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশিত উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে ছিল ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার হে’, ‘কারার ঐ লৌহ-কবাট’, ‘মোদের এই শিকল পরা ছল’ এবং ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল’।
প্রতিটি পরিবেশনার পর দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত করতালি ও শিল্পীদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলানোর দৃশ্য অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। রাত বাড়লেও মিলনায়তনে ছিল দর্শকদের উপস্থিতি ও সাংস্কৃতিক আবহ।
‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল’ গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজন। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজকেরা তুলে ধরেন—ইতিহাস ও চেতনা শুধু বইয়ের পাতায় নয়, সংস্কৃতির মাধ্যমে তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।