দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রমজান আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করেন বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দুদক রমজান আলীর বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে।
এর মধ্যে একটি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত থাকলেও বাকি দুটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। দীর্ঘদিন ধরে এসব মামলার শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার পৌর সুপার মার্কেটের দক্ষিণ পাশের নিচু জমি ভরাটের কাজ মেসার্স মহুয়া কনস্ট্রাকশনের মালিক ও জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলামের (মট্টু) মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই কাজের পরিধি বারবার বাড়ানো হয় এবং ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে পৌর তহবিল থেকে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
এ ছাড়া ১৯৯৮-২০০৫ সাল পর্যন্ত মানিকগঞ্জ কাঁচাবাজারসংলগ্ন একটি ডোবা ভরাটের কাজ নিয়েও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ওই প্রকল্পে কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার বেশি আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। দুটি মামলাতেই রমজান আলীর পাশাপাশি ঠিকাদার আমিরুল ইসলামকেও আসামি করা হয়।
দুদকের তদন্ত শেষে ২০০৮ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অপর আসামি আমিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেওয়ান মিজানুর রহমান বলেন, রমজান আলীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা আদালতে চলমান। এ দুটি মামলার শুনানিতে তিনি দীর্ঘদিন আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। আজ আদালতে রমজান আলী হাজির হন এবং তাঁর আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এ টি এম শাহজাহান দাবি করেন, অসুস্থতার কারণেই রমজান আলী আদালতে হাজির হতে পারেননি। শিগগির পুনরায় জামিনের আবেদন করা হবে।
এ ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানির তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।