মানিকগঞ্জের ঝিটকার ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) নিবন্ধন সনদ পেয়েছে। গতকাল সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’-এর জিআই নিবন্ধন সনদ ইস্যু করে। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও প্রত্যাশার পর এ স্বীকৃতিতে স্থানীয় উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
ডিপিডিটির মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত জিআই (আর) ফরম-১-এর মাধ্যমে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। জিআই নিবন্ধন সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জ’-এর নামে ৩০ শ্রেণিতে জিআই-৬২ নম্বরে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’ পণ্যটি ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নিবন্ধিত হয়েছে।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা অঞ্চলে উৎপাদিত হাজারী গুড় দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে সমাদৃত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খেজুরের উৎকৃষ্ট রস থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া এ গুড়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের গুড় থেকে আলাদা। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ গুড়ের ব্যাপক চাহিদা থাকে। দেশীয় বাজারের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও এর কদর রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার প্রচেষ্টায় হাজারী গুড়ের জিআই নিবন্ধনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হয়। এর ফলে জেলার ঐতিহ্যবাহী এ পণ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের সুযোগ পেল।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ঝিটকার হাজারী গুড়ের জিআই স্বীকৃতি মানিকগঞ্জবাসীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এটি শুধু একটি পণ্যের স্বীকৃতি নয়, বরং জেলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও স্থানীয় কারিগরদের দক্ষতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই অর্জনের ফলে স্থানীয় উৎপাদকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং পণ্যটি রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিআই নিবন্ধন সনদ পাওয়ার ফলে হাজারী গুড়ের ব্র্যান্ড মূল্য বাড়বে। একই সঙ্গে নকল পণ্যের বিস্তার রোধ হবে এবং প্রকৃত উৎপাদকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতি সংরক্ষণে উৎসাহ বাড়বে।
স্থানীয় উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা জানান, জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় হাজারী গুড়ের বাজার সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে আন্তর্জাতিক বাজারে এ পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।