হঠাৎ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সী মমতাজ বেগম। স্বজনদের অভিযোগ, গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পরও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় জরুরি বিভাগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের কর্মীদের হাতাহাতির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। মমতাজ বেগম ঘিওর উপজেলার শ্রীবাড়ি গ্রামের বাবুল হোসেনের স্ত্রী।
স্বজনদের ভাষ্য, দুপুর পৌনে একটার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মমতাজ বেগম। দ্রুত তাঁকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থা গুরুতর জানিয়ে দ্রুত চিকিৎসার অনুরোধ করেন স্বজনেরা। তবে তাঁদের অভিযোগ, মমতাজকে জরুরি চিকিৎসা না দিয়ে তখন অন্য এক রোগীকে আগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
মমতাজের এক ভাতিজি জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি (মমতাজ) অজ্ঞান হয়ে পড়েন। একজন মেডিকেল অফিসার তাঁর রক্তচাপ ও পালস পরীক্ষা করে অক্সিজেন দেন। ইসিজি করার পর রোগী জীবিত থাকার কথা জানানো হলেও হাসপাতাল থেকে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে আফসার বলেন, ‘দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক আমাদের কাছে ভুল স্বীকার করেছেন।’
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শাম্মী আক্তার। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে আসার পর রোগী আবার অজ্ঞান হয়ে গেলে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মানিকগঞ্জে পাঠানো হয়। তবে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।’
হাসপাতালের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) তোফায়েল জানান, রোগী হাসপাতালে আসার সময় তাঁর মধ্যে কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা যায়নি। পরে রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনেরা তাঁর ওপর হাত তোলেন। এ সময় তাঁর ছেলে তাঁকে রক্ষা করতে গেলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ভূইয়া বলেন, তিনি সরকারি প্রশিক্ষণে উপজেলার বাইরে রয়েছেন। রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছেন। স্বজনদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।