মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা বশিরের (২১) দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বন্ধুদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বশিরের বাবা মনির হোসেন গতকাল সোমবার রাতে সিঙ্গাইর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার রাতে সিঙ্গাইর উপজেলার ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। আহত বশিরের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের চক গোবিন্দপুর গ্রামে।
বশিরের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে জেলা ছাত্রলীগের উপকর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—সদর উপজেলার গুজুরির চর গ্রামের আকাশ মোল্লা (২১), সিঙ্গাইর উপজেলার ডেফলতলী গ্রামের আরিফ হোসেন (২০), চর কৃষ্ণপুর গ্রামের তানজিদ হোসেন (২২) এবং ভাড়াই ভিকরা গ্রামের মো. তুহিন (২১)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বশিরকে তাঁর বন্ধু আকাশ মোল্লা বেতিলা এলাকার একটি রেস্তোরাঁ থেকে কৌশলে ডেফলতলীর ওই ইটভাটায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। তাঁরা ধারালো অস্ত্র, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে বশিরের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে যায়। এ সময় মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানেও তাঁকে কুপিয়ে জখম করা হয়।
হামলার পর স্থানীয় লোকজন বশিরকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
বশিরের বড় ভাই রবিউল ইসলাম বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে বিরোধের কারণ তাঁরা জানেন না।
বশিরের বাবা মনির হোসেন জানান, কী কারণে তাঁর ছেলের ওপর হামলা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। তিনি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, মামলার আসামিরা সবাই আহত বশিরের পরিচিত ও বন্ধু। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।