হোম > সারা দেশ > মানিকগঞ্জ

আরিচা বন্দর এলাকায় যত্রতত্র বর্জ্য, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি  

আরিচা বন্দর এলাকায় ময়লার স্তূপ। ছবি: আজকের পত্রিকা

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আরিচা বন্দর এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ দূষিত হয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। ময়লা ফেলার কোনো ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় রাস্তার পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ও নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ময়লার ভাগাড়। এতে স্থানীয় লোকজন ডেঙ্গু, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও হাঁপানিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আরিচা বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে, পোস্ট অফিস রোডের মোড়, বন্দর বাজারের পশ্চিমে যমুনার তীর ও লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়মিত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। শিবালয় নতুন পাড়া এলাকায় রাস্তা ও ড্রেনের ওপরও রাতের আঁধারে ময়লা ফেলা হয়। ফলে দুর্গন্ধের কারণে এসব পথ দিয়ে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পোস্ট অফিস রোডের পাশে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্যের বড় স্তূপ। দুর্গন্ধ এড়াতে পথচারীদের নাক-মুখ চেপে দ্রুত স্থানটি পার হতে হচ্ছে। একই অবস্থা বন্দর বাজারসংলগ্ন যমুনার তীরেও। সেখানে বাজারের বর্জ্যের পাশাপাশি কসাইখানার উচ্ছিষ্ট ও বাসাবাড়ির আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

স্যালুন ব্যবসায়ী রিপন বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে দিনের অধিকাংশ সময় দোকানে বসে থাকা কষ্টকর। অনেক সময় দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারাও চলে যান। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে।

আরেক ব্যবসায়ী তরুণ ভোজ বলেন, বাজারের পচা-ময়লা যত্রতত্র ফেলে রাখায় মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও হুমকিতে পড়েছে।

আরিচা বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ময়লার স্তূপ থাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারি জায়গায় নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মশাবাহিত রোগের পাশাপাশি হাঁপানি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, আরিচা বন্দর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ড অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হলেও ময়লা ফেলার নির্ধারিত জায়গা নেই। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্বভাবে ডাম্পিং স্টেশন তৈরির সক্ষমতা নেই। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।