দেশীয় ফসলের হারিয়ে যাওয়া বীজ সংরক্ষণ, কৃষিবৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বীজের বাজার গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে শত প্রজাতির দেশীয় ফসলের বীজ ও অচাষকৃত উদ্ভিদের মেলা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের সরুপাই গ্রামে সরুপাই নারী সংগঠনের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। এতে সরুপাই গ্রামের কিষানিদের পাশাপাশি জয়নগর ও রামদিয়ানালী অ্যাগ্রো ইকোলজি শিখন কেন্দ্রের দুই শতাধিক কৃষাণী অংশ নেন।
মেলায় কিষানিরা নিজেদের সংগ্রহ ও সংরক্ষণে থাকা বিভিন্ন দেশীয় ফসলের বীজ ও অচাষকৃত উদ্ভিদ নিয়ে অংশ নেন। এতে শতাধিক দেশীয় জাতের বীজ ও উদ্ভিদ প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল দেশি লাউ, শিম, চৈত্রা সরিষা, কুসুমফুল, ডাঁটার বীজ, শাপলা, থানকুনি পাতা, ডিমা শাক, দেশি তিল, কালোজিরা, লাল শাক, পুনর্ণবা, হেলেঞ্চাসহ নানা ধরনের স্থানীয় ফসল ও উদ্ভিদ। প্রদর্শনীর পাশাপাশি লালশাকরা এসব বীজ ও উদ্ভিদ বিক্রিও করেন।
মেলায় অংশ নেওয়া কিষানিরা জানান, নিজেদের উদ্যোগে সংরক্ষণ করা বীজ বিক্রির জন্য স্থানীয় পর্যায়ে একটি স্থায়ী বাজার গড়ে তোলা জরুরি। এতে দেশীয় বীজ সংরক্ষণের পাশাপাশি কৃষকদের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সরুপাই নারী সংগঠনের সভাপতি রেশমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন কৃষি গবেষক মো. মনোয়ার হোসেন, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার কমল চন্দ্র দত্ত, সুবীর কুমার সরকার, নারী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুজাহান বেগম, সেলিনা, আলপনা ও অঞ্জনাসহ স্থানীয় কিষান-কিষানিরা।
বক্তারা বলেন, দেশীয় বীজ সংরক্ষণে স্থানীয় পর্যায়ে বাজার গড়ে তোলা জরুরি। এর মাধ্যমে কৃষিবৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।