মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও স্টাফবাহী ‘কালীগঙ্গা’ বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে একাধিক ছাত্রীসহ অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জবি শিক্ষার্থী ও স্টাফবাহী বাসটি সিংগাইরের দিকে যাচ্ছিল। ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় বাসটির সঙ্গে একটি অটোরিকশার ধাক্কা লাগে। এ সময় মো. কাউসার নামে অটোরিকশার এক যাত্রীর সঙ্গে বাস যাত্রীদের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে বাসটি ভূমদক্ষিণ এলাকায় পৌঁছালে কাউসার ও তাঁর ৩-৪ জন সহযোগী বাসটিতে হামলা চালান। তাঁরা পাইপ দিয়ে বাসের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন।
এ ঘটনায় বাসের যাত্রী জবির প্রথম বর্ষের ছাত্রী রিম্বি আক্তার এবং ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী পূর্ণিমা আক্তারসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মো. কাউসার সিংগাইর উপজেলার ভূমদক্ষিণ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।
শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘হেমায়েতপুর থেকে অটোরিকশায় আসার পথে আমার ছেলে কাউসারের সঙ্গে জবি শিক্ষার্থীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাসের স্টাফ ও শিক্ষার্থীরা আমার ছেলে কাউসারকে মারধর করেন। পরে আমার ছেলে রেগে গিয়ে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে বাসটির কয়েকটি কাচ ভাঙচুর করে।’
জবির পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, ‘আমাদের বাসে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করা হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। দুজনের অবস্থা গুরুতর। একজনের মাথা ফেটে গেছে। আরেকজনের বুকে ভাঙা কাচ ঢুকেছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মামলার বিষয়ে কথা বলেছি। হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজনকে শনাক্ত করেছি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি’
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। যে ঘটনার জেরে বাসটিতে হামলা করা হয়েছে তার সঙ্গে এই বাসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। হামলার কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’