হোম > সারা দেশ > মানিকগঞ্জ

ঘিওরে নেশাগ্রস্ত ছেলের মারধরের ভয়ে ১৫ দিন ধরে বাড়িছাড়া বাবা-মা

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন ওরফে খন্দকার জনু ও তাঁর স্ত্রী ছালমা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের হিজুলিয়া গ্রামে নেশাগ্রস্ত ছেলের মারধর ও নির্যাতনের ভয়ে ১৫ দিন ধরে বাড়িছাড়া এক দম্পতি।

তাঁদের অভিযোগ, নেশার টাকা না পেয়ে একমাত্র ছেলে সালমান (২২) তাঁদের মারধর ও দুর্ব্যবহার করেন। নিরাপত্তার জন্য বর্তমানে তাঁরা স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী দম্পতি হলেন হিজুলিয়া গ্রামের মরহুম আব্দুল খালেক খন্দকারের ছেলে জয়নাল আবেদীন ওরফে খন্দকার জনু (৬০) ও তাঁর স্ত্রী ছালমা আক্তার (৫০)।

জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এসএসসি পাসের পর থেকেই সালমান বেকার। গত চার-পাঁচ বছরে সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। নেশার টাকা না দিলে বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করে। এর আগে কয়েকবার তার মাকে মারধর করেছে। আমাকেও শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা করে প্রতিনিয়ত। বাড়ি ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।’

ছালমা আক্তার জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে সালমানের মারধর থেকে বাঁচতে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে পয়লা ইউনিয়নের বাংগালা পূর্বপাড়া গ্রামের এক স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। নিরাপত্তার কারণে এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সালমানকে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আসার পর তার আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত সালমানের বাড়িতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। এতে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সালমানের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলে জানান তাঁরা।

অভিযুক্ত সালমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। কয়েক দফা মোবাইলে কল দিলেও তা রিসিভ করেননি।

এ অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন জয়নাল আবেদীন ও তাঁর স্ত্রী। একই সঙ্গে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহাবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তবে বিষয়টি তিনি শুনেছেন। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সালমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।