হোম > সারা দেশ > মাগুরা

মাগুরায় স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে মিলল ধারালো ব্লেড

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি 

মাগুরায় স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে মিলল ধারালো ব্লেড। ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার শ্রীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালুকৃত ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির বনরুটির ভেতরে আস্ত একটি ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হরিন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে এমন বিপজ্জনক বস্তু কীভাবে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

৬ আগস্ট স্কুল ফিডিংয়ে দেওয়া বনরুটি বাড়িতে নিয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম অর্চি তার ছোট বোনের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়ার সময় রুটির মাঝ বরাবর একটি ধারালো ব্লেড দেখতে পায় বলে অভিযোগ পরিবারের।

গত শুক্রবার ও শনিবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় রোববার বনরুটিসহ বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানান ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা। পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে জানানো হয়।

শিক্ষার্থীর মা বিলকিস আক্তার লিজা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) স্কুল থেকে দেওয়া বনরুটিটি মেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। রাতে প্যাকেট খুলে দুই বোন রুটিটি মাঝখান থেকে ছিঁড়তে গেলে ভেতরে একটি আস্ত ব্লেড দেখতে পাই। পরে রোববার স্কুলে এনে হেড ম্যাডামকে দেখাই। শিশুদের খাবারে এমন মরণঘাতী ব্লেড পাওয়ার পর আমরা খুবই শঙ্কিত। আমরা চাই, শিশুরা স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার পাক।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, ৯ আগস্ট এক অভিভাবক রুটিটি এনে দেখান। রুটির মাঝ বরাবর একটি আস্ত ব্লেড ছিল। পরে প্রধান শিক্ষিকাকে জানানো হয়। এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হরিন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা শিরিন বলেন, ঘটনার দিন আমি ছুটিতে ছিলাম। পরে এসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলি। তাদের অভিযোগ এবং রুটির ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। শিশুদের খাবারে এ ধরনের ব্লেড পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে স্কুল ফিডিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা আমাদের কেউ জানায়নি। বিষয়টি আমার জানা নেই।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন। শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।