মাগুরায় পূর্বশত্রুতার জেরে মহম্মদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নাইটগার্ড মোমিন মিয়াকে (৪৫) হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার রাত ৮টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের ধলহারা পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মোমিন মিয়া বর্তমানে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মোমিন মিয়া নিজ গ্রামের বলেশ্বরপুর মসজিদের সাধারণ সম্পাদক। মসজিদের সংস্কারকাজের জন্য রড ও সিমেন্ট কেনার উদ্দেশ্যে বুধবার সন্ধ্যার পর স্ত্রী ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সত্যজিৎপুর বাজারের এক ব্যবসায়ীকে টাকা দিতে যাচ্ছিলেন তিনি।
পথে ধলহারা গ্রামের আলম ও করিম মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে রাজুর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল তাঁদের পথরোধ করে। এ সময় তাঁকে হাতুড়ি, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন মোমিন মিয়া।
মোমিন মিয়ার অভিযোগ, একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁর কাছে থাকা পাঁচ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের গলার ও কানের স্বর্ণালংকার খুলে নেয়। তাঁদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত মোমিন মিয়াকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে রাজুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর পরিবার অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁদের দাবি, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মারধর ও ছিনতাইয়ের এই সাজানো অভিযোগ আনা হয়েছে।’
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’