দীর্ঘ দুই বছর ৩ মাস বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এক মাস ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা প্রসূতি, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল ও পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানায়, উপজেলা সদরের ছাতিলাপুর রোডে অবস্থিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত। বর্তমানে বকেয়া বিলের পরিমাণ ১ লাখ ৯২ হাজার ৭২৪ টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রসূতি ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চিকিৎসা না দিয়েই ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কাউকে কাউকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও পাঠানো হচ্ছে। ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে তীব্র গরম থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা প্রসূতির স্বামী ইকরামুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি কারেন্ট নেই। গরমের ভেতরে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই, হাতপাখা দিয়ে বাতাস করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। সরকারি এই হাসপাতালে যদি এমন অবস্থা হয়, তবে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাব? বাধ্য হয়ে অন্য কোথাও চলে যেতে হচ্ছে।’
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. আব্দুল আওয়াল জানান, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু বাজেট সংকট থাকায় সময় মতো বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।’
শ্রীপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, ‘আগে অধিদপ্তর থেকে বছরে দুইবার বিদ্যুৎ বিলের বাজেট আসত। দীর্ঘদিন তা বন্ধ থাকার পর বর্তমানে পর্যায়ক্রমে আসা শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই বকেয়া বিল পরিশোধ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।’
শ্রীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. শামীম উদ্দিন জানান, ‘দীর্ঘদিন বকেয়া থাকায় এবং বারবার নোটিশ ও সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও বিল পরিশোধ না করায় নিয়মানুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।’