মাগুরায় মোটরসাইকেলের হর্ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে মারধর ও থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি এবং সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাঈমুজ্জামান নয়নের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশসহ সর্বস্তরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের বিপরীত পাশে মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য মো. ইমরান হোসেন মাগুরা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল ইমরান মোটরসাইকেল নিয়ে ভায়নার মোড় হয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালের সামনে নাঈমুজ্জামান নয়ন বাইকের সামনে পড়লে ইমরান হর্ন দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নয়ন ও তাঁর সহযোগীরা বাইকের গতিরোধ করে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও থাপ্পড় মারেন। এ সময় পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন সহায়তা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ভিডিওতে নয়নকে পুলিশ সদস্যের বাইকের চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং নিজের মোবাইলে ভিডিও ধারণের পাশাপাশি মারধর করতে দেখা যায়।
পরে রাত ৮টার দিকে সদর থানায় পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত হয়ে বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেন এবং নয়ন ওই পুলিশ সদস্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নয়ন বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা ছাড়া অন্য কোনো মামলা নেই। ওই পুলিশ সদস্য পরিচয় না দেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে নিয়েছি।’
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভিডিওটি নজরে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।