মাগুরার শ্রীপুরে ছাত্রশিবিরের সিরাত প্রতিযোগিতার প্রচারণামূলক পোস্টার লাগানোর কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে ছাত্রদলের ধাওয়া খেয়ে থানায় আশ্রয় নেন শিবিরের নেতা-কর্মীরা।
আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে শ্রীপুর সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কলেজের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকায় সিরাত প্রতিযোগিতার প্রচারণামূলক পোস্টার লাগাচ্ছিলেন শিবিরের নেতা কর্মীরা। এ সময় ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ধাওয়া দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হলে ছাত্রশিবিরের নেতা কর্মীরা থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিফাত জানান, পোস্টার লাগানোর সময় শ্রীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান অন্তর তাঁদের বাধা দেন, গালাগালি করেন এবং পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় এক শিবিরকর্মীর মোবাইলও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাধার মুখে তাঁরা সরে গিয়ে ঘটনাটি থানার ওসিকে জানান। ওসির পরামর্শে থানায় গিয়ে তাঁকে না পেয়ে ফেরার পথে আবার পোস্টার লাগানোর চেষ্টা করেন শিবিরের নেতা কর্মীরা। তখন তাঁদের ওপর চড়াও হয় ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা।
রিফাত আরও বলেন, ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় ও ধাওয়া করে। পরে আত্মরক্ষার্থে আমরা থানায় আশ্রয় নেই। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা থানার আশপাশে মহড়া দিতে থাকায় আমরা আতঙ্কিত পড়ি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান অন্তর। তাঁর দাবি, শিবিরের নেতা কর্মীরা কলেজের প্রধান ফটকে পোস্টার লাগালে তিনি বাধা দিয়ে অন্য কোনো স্থানে লাগানোর অনুরোধ করেন। গালাগালি বা পোস্টার ছেঁড়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। ধাওয়া দেওয়ার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানান।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে শ্রীপুর সরকারি কলেজের সামনে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতা কর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষই থানায় এলে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, দুই রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।