টিকটকে পরিচয়, বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, অবশেষে বিয়ের দাবি। সমকামিতার সম্পর্কের টানে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে মাগুরার শ্রীপুরে ছুটে আসে এক তরুণী। বিয়ের স্বীকৃতির দাবি নিয়ে হাজির হয় প্রেমিকার বাড়িতে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা খ্রিষ্টান তরুণীর নাম জয়া গাইন। সে রাজৈর থানার লখন্ডা গ্রামের পিজুস গাইনের মেয়ে। অপর তরুণী শ্রীপুরের টুপিপাড়া গ্রামের মিরাজ বিশ্বাসের মেয়ে মিরা খাতুন (১৬)। সে ধর্মে মুসলিম। বর্তমানে জয়া গাইন মিরাজ বিশ্বাসের বাড়িতে অবস্থান করছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে স্থানীয়দের চমকে দিয়ে জয়া গাইন মিরা খাতুনের বাড়িতে এসে জানায়, একে অপরকে ভালোবেসে তারা মুঠোফোনে বিয়ে করেছে। তবে তাদের কাছে কোনো বৈধ বিয়ের প্রমাণপত্র ছিল না।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিরা খাতুনের সঙ্গে টিকটকে পরিচয় হয়েছিল জয়া গাইনের। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৬ আগস্ট মিরা খাতুন পরিবারের কাউকে না জানিয়ে মাদারীপুরে জয়া গাইনের বাড়িতে চলে যায়। সেখানে ৫ দিন অবস্থান করার পর পুলিশের সহায়তায় তাকে ফিরিয়ে আনে পরিবার। এরপর মিরার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল জয়া গতকাল তার বাড়িতে হাজির হয়।
জয়া গাইন জানায়, ইতিপূর্বে এক প্রবাসীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। সেখানে দুই বছর সংসারের পর বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর মিরার সঙ্গে টিকটকে পরিচয়ের মাধ্যমে মুঠোফোনে তারা বিয়ে করেন।
মিরা খাতুন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মুঠোফোনে আমাদের বিয়েও হয়েছে। এমন বিয়ে ও সম্পর্ক অনেকেই করছেন। আমি তাকে ছাড়া বাঁচব না।’
এ ঘটনায় মিরা খাতুনের বাবা মিরাজ জানান, এটা কখনোই সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে পুলিশে এবং তরুণী জয়া গাইনের পরিবারে জানানো হয়েছে। তাঁরা এলেই প্রশাসনের সহযোগিতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হবে।