মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিশু ওয়ার্ডের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
শিশু ওয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার ২৪ ঘণ্টায় ১৩৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর গত তিন দিনে প্রায় ৩০০ শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে, নির্ধারিত শয্যায় জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিন ও চারতলার শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শয্যা না পেয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছে অনেক শিশু। একদিকে অসুস্থ শিশুদের কান্না, অন্যদিকে স্বজনদের উদ্বেগ—সব মিলিয়ে ওয়ার্ডের পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠেছে।
এর মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনেরা। বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডে গরম বেড়ে যায়। অসুস্থ শিশুরা ঘেমে অস্বস্তিতে পড়ে। এতে তাদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে বলে দাবি স্বজনদের।
শিশু রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে নার্সদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালের নার্সরা জানান, প্রতিদিন যেভাবে শিশু ভর্তি হচ্ছে, তাতে রোগীদের সেবা দিতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এরপরও তাঁরা যথাসাধ্য সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
শিশুর স্বজন সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় গরমে শিশুরা ঘেমে যাচ্ছে। পরে ঠান্ডা ও জ্বর হচ্ছে। হাসপাতালে এসে বিদ্যুৎ না থাকলে শিশুদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়তে হয়।’
আরেক স্বজন সোনিয়া খাতুন বলেন, ‘এত গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে না। শিশুদের নিয়ে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেও যদি গরমে থাকতে হয়, তাহলে স্বজনদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।’
তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, তাঁর মেয়ে ঠান্ডা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। এতে শিশুরা আরও কষ্ট পাচ্ছে। সরকারের কাছে হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুদের অসুস্থতার কারণ হিসেবে শুধু গরম বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে দায়ী করা যায় না। শিশুর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাজিয়া আক্তার বলেন, শিশু বেশি ঘামলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী স্যালাইন খাওয়াতে হবে। গরু বা ছাগলের দুধসহ কিছু খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শয্যাসংকটের পাশাপাশি ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিশুদের স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া এবং হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রোগীর স্বজনেরা।
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আরএমও মো. মামুন উর রশীদ বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজন সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর ধারণক্ষমতা ৪৫ জন হলেও বর্তমানে সেখানে সব সময় ২০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। এত বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে মাত্র তিনজন চিকিৎসককে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একদিকে লোডশেডিং, অন্যদিকে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী। সব মিলিয়ে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’