মাচাজুড়ে ঝুলছে থোকায় থোকায় হলুদ ও সবুজ রঙের তরমুজ। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে বাহারি রঙের ফল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ব্যতিক্রমী এ দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথচারীরা। কেউ ক্ষেতের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ আবার মুঠোফোনে ছবি তুলছেন। অসময়ে ভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করে এমনই কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি করেছেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. হাসানুর রহমান।
উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ভাবনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাসানুর মাত্র পাঁচ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন ‘ব্ল্যাকবেরি’ ও ‘ইয়েলো মেলন’ জাতের তরমুজ। এর মধ্যে হলুদ রঙের ইয়েলো মেলন নজর কেড়েছে বেশি। শখের বশে শুরু করা এই চাষ এখন স্থানীয় মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
হাসানুর জানান, তরমুজ চাষের জন্য মাগুরা জেলা শহর থেকে ২০ গ্রাম বীজ কিনতে তাঁর খরচ হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা। পরে নিজেই বীজ থেকে চারা তৈরি করেন। গত আগস্টে জমিতে চারা রোপণ করেন তিনি। প্রায় দেড় মাস পরিচর্যার পর গাছে ফল আসতে শুরু করে।
প্রচলিত পদ্ধতির বদলে মাচায় তরমুজ চাষ করেছেন হাসানুর। বাঁশের খুঁটি ও নাইলনের নেট দিয়ে তৈরি করেছেন মাচা। সেই মাচায় ছড়িয়ে পড়েছে গাছের লতা। লতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে হলুদ ও সবুজ রঙের তরমুজ। বিশেষ করে সবুজ পাতার মধ্যে হলুদ ফলের উপস্থিতি তৈরি করেছে দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য।
তরমুজের এই ব্যতিক্রমী ক্ষেত দেখতে প্রতিদিনই আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ ফলের ছবি তুলছেন, আবার কেউ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইছেন চাষের পদ্ধতি ও পরিচর্যার কৌশল।
স্থানীয় কৃষক বাবলু বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সাধারণত এভাবে তরমুজ চাষ করতে দেখা যায় না। হাসানুর অল্প জমিতে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করে আমাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছেন। তাঁর ক্ষেতের হলুদ ও সবুজ রঙের তরমুজ দেখতে খুবই সুন্দর। কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে আমরাও এ ধরনের ফসল চাষে আগ্রহী হব।’
আরেক কৃষক জমির বলেন, ‘হাসানুরের তরমুজ চাষ আমাদের এলাকার জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। অল্প জমিতে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করা যায়, তা তাঁর ক্ষেত না দেখলে বুঝতে পারতাম না। ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে এলাকার আরও কৃষক এ চাষে আগ্রহী হবেন।’
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে হাসানুর রহমান বলেন, ‘নিতান্তই শখের বশে তরমুজ চাষ করেছি। মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজ দেখতে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে হলুদ রঙের তরমুজ সহজেই মানুষের নজর কাড়ে।’
মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান শিলু বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকেরা সাধারণত তরমুজ চাষ করেন না। তবে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হাসানুর রহমানের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তাঁকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে এলাকার অন্য কৃষকেরাও তরমুজ চাষে আগ্রহী হতে পারেন।