মাদারীপুরের ডাসারে একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজাদ হোসেন হাওলাদার পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন। এরপর সুযোগ বুঝে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি করেন। এমন অভিযোগে বিক্ষোভ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে কাজীবাকাই ইউনিয়নের বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের সহপাঠীরা। অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ডাসার উপজেলা প্রশাসন। বিক্ষোভ চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক আজাদ হোসেন হাওলাদার বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আজাদ হোসেন হাওলাদার। নবম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তিনি প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন। পড়ানোর সময় তিনি যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষেও শিক্ষার্থীদের নানা কারণে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের সহপাঠীরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র বলেছে, অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা। ডাসার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানকে সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহ্ উদ্দিন আকনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে কমিটিতে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহ্ উদ্দিন আকন বলেন, দুজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো ঘটনা তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। বিক্ষোভ চলার কারণে সহকারী শিক্ষক আজাদ হোসেন হাওলাদার বিদ্যালয়ে আসেননি।
অভিযুক্ত শিক্ষক আজাদ হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। তদন্ত করলেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। তাই এই ব্যাপারে আমার কিছুই বলার নেই।’
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে আন্দোলন করছিল শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশ গিয়ে আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়। অভিযোগ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।