হোম > সারা দেশ > মাদারীপুর

কালকিনিতে গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ, পালিয়েছে স্বামী

মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

মাদারীপুরের কালকিনিতে হাসপাতালে স্ত্রী মোসা. লাবনী আক্তারের লাশ রেখে স্বামী রিফাত ঘরামী পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়ার আগে ওই গৃহবধূ একটি চিরকুট লিখে গেছেন বলে জানা গেছে। কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুর গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লাবনী আক্তার বাবার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ভূরঘাটা এলাকায়। বাবা হাসমত আলী খান।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুর গ্রামের আব্দুর রব ঘরামীর ছেলে রিফাত ঘরামী ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ভূরঘাটা গ্রামের হাসমত আলী খানের মেয়ে লাবনী আক্তার একই স্কুলে পড়ালেখা করত। সেখান থেকে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরে নয় মাস আগে উভয়ে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। পরে উভয় পরিবার তাদের এ বিয়ে মেনে নেয়। এর কিছুদিন পর স্বামীর বাড়ির লোকজন যৌতুকের টাকার জন্য লাবনীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে  নির্যাতন শুরু করে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আবার নির্যাতন করলে তা সইতে না পেরে ওই গৃহবধূ বিষপান করেন। খবর পেয়ে লাবনীর বাবার বাড়ির লোকজন এসে অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বরিশাল সেবাচীম হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আজ শনিবার ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ওই গৃহবধূ মারা যান। সকালে লাশ হাসপাতালে রেখে স্বামী পালিয়ে যায়। এদিকে মৃতুর খবরে শ্বশুরবাড়ির লোকজনও গা ঢাকা দিয়েছেন। তাই তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নিহতের বোন রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমার বোন লাবনী আক্তারের স্বামীর পরিবার তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। তাদের দাবি করা যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় বিভিন্ন সময় তারা লাবনীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। তাই লাবনী তাঁর স্বামী ও পরিবারের নির্যাতন সইতে না পেরে চিঠি লিখে আত্মহত্যা করেছেন। স্বামী ও তাঁর পরিবারের নামে আমরা মামলা করব। আমরা এই মৃত্যুর বিচার চাই।’

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।