মাদারীপুর জেলার শিবচরে মা ও শিশু হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফারুকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। আজ শনিবার বিকেলে উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের বেইলি ব্রিজ বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্ত ফারুকের সর্বোচ্চ শাস্তি, দ্রুত বিচার এবং নিখোঁজ শিশু আবিরের মরদেহ দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পক্ষে কোনো আইনজীবী যেন মামলা পরিচালনা না করেন এমন দাবিও জানান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, ‘শাম্পা খাতুন ও তাঁর শিশুপুত্রকে যেভাবে নৃশংসতার শিকার হতে হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে অপরাধীরা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ অপরাধে উৎসাহিত হবে।’
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকার একটি ঝোপের পাশ থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে জানা যায়, ওই নারী নাটোরের লালপুরের বাসিন্দা শাম্পা খাতুন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, আদালতে একটি মামলার সূত্র ধরে শাম্পা খাতুনের সঙ্গে ফারুকের পরিচয় হয়েছিল। পুলিশের অভিযোগ, ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে শাম্পাকে নিজের বাসায় ডেকে আনেন ফারুক। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে শাম্পার এক বছর বয়সী সন্তানকেও আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেন। তবে এখন পর্যন্ত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় নিহত শাম্পা খাতুনের বাবা ছামরুল ইসলাম শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ ও র্যাব-৮ প্রযুক্তির সহায়তায় যৌথ অভিযান চালায়। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজৈর এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে ফারুকের বাসা থেকে নিহত শাম্পা খাতুনের সোনার নাকফুল, রুপার চেন, জুতা এবং আংশিক পোড়া একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, হত্যাকাণ্ডে ফারুকের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।