ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের অংশের দুটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কালকিনি ও রাজৈর পৌরসভার সব ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়ক ঘেঁষে খোলা জায়গাগুলো ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা শত শত টন ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে যানবাহনের যাত্রীসহ এলাকাবাসী। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়ক থেকে ময়লা-আবর্জনা সরাতে বারবার সংশ্লিষ্টদের তাগাদা দিলেও কোনো সমাধান মেলেনি।
মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ গোপালপুর এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে কালকিনি পৌরসভার সব ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। মহাসড়কেও গড়িয়ে পড়ছে আবর্জনা। এমনিতেই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি সরু। নোংরা আবর্জনাভরা এই এলাকায় মহাসড়কে পথচারী আর যানবাহন চলতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকার হাজী হাসমত ফিলিং স্টেশনের সামনে মহাসড়কের পাশে রাজৈর পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশেই এখানে টিনের বেড়া ও চাল দিয়ে বানানো ঘরে ময়লা ফেলার স্থান বানানো হয়েছে। প্রতিদিন সকাল হলেই এই তিন ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনাগুলো ভ্যানগাড়িতে করে এই স্থানে রাখা হয়। পরে ট্রাকে করে রাজৈর-কোটালীপাড়া সড়কের চৌয়ারীবাড়ি এলাকায় ফেলা হচ্ছে। এতে এই এলাকার মানুষজন দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
এর আগে চার বছর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের বড়মেহের এলাকায় মাদারীপুর পৌরসভার ময়লা ফেলা হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর স্থানীয়দের চাপের মুখে পড়ে এই স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধ করে পৌর কর্তৃপক্ষ।
কালকিনির দক্ষিণ গোপালপুরের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, দুর্গন্ধের কারণে এখানে থাকাই দায়। নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হয়। মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলা বন্ধ করা উচিত।
মেহেদী হাসান নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বর্জ্য নিষ্কাশনে অব্যবস্থাপনার ফলে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে। মানুষ চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
ট্রাকচালক মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমি প্রতি সপ্তাহে বরিশাল থেকে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও খুলনা মালপত্র আনা-নেওয়া করি। এই এলাকায় এলে দুর্গন্ধে খুব কষ্ট হয়। মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপ দেখতেও খারাপ লাগে।’
অটোরিকশাচালক সৈকত হাসান বলেন, এই পথ দিয়েই যাত্রী আনা-নেওয়া করি। এখান দিয়ে চলাফেরা করতে খুব কষ্ট হয়। মাঝে মধ্যে যাত্রীরাও বমি করে দেয়। বাতাসে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ভেসে আসে।
রাজৈরের বাসিন্দা সোহেল হাসান বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে এভাবে ময়লা ফেলা ঠিক না। ময়লার ভাগাড় দ্রুত অপসারণের দাবি জানাই।’
রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুল হক বলেন, ‘আমাদের পৌরসভার ময়লা ফেলার কোনো জায়গা নেই। ময়লা ফেলার জন্য জমি কেনার ব্যাপারে কথা হচ্ছে।’
কালকিনি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফিন বলেন, ‘ময়লা ডাম্পিং করার জন্য জায়গা কিনতে চাইলেও তা পাওয়া যায়নি। জায়গা কিনতে পারলে সেখানে ময়লা ফেলা হবে। তা ছাড়া, স্থানীয় এমপিও এ ব্যাপারে চেষ্টা করছেন। আশা করছি, খুব দ্রুত এর সমাধান হবে।’