হোম > সারা দেশ > লালমনিরহাট

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘ষড়যন্ত্রের’ বিচার চাইলেন এমপি বাবুল

লালমনিরহাট প্রতিনিধি 

সরকারি আদিতমারী জি এস উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কর্মী মূল্যায়ন সভায় বক্তব্য দেন লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের ষড়যন্ত্রের বিচার চাইলেন লালমনিরহাট-২ আসনের এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল। গতকাল মঙ্গলবার রাতে লালমনিরহাটের সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত কর্মী মূল্যায়ন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, ‘সকল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকসহ সব সংগঠনের নেতারা মঞ্চে রয়েছেন। তাঁরা কি তৃণমূলের নেতা নন? তাহলে কি ওই কয়েকজনই তৃণমূলের নেতা, যাঁরা আজ তৃণমূল দাবি করে আমাকে অযোগ্য বলছেন?’

বাবুল বলেন, ‘আমার দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন আমি অযোগ্য এবং পদত্যাগ করতে বলেন, তাহলে এক মুহূর্তও বিলম্ব করব না। সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করব। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই। তিনি যেন সুষ্ঠু তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে হওয়া ষড়যন্ত্রের বিচার করেন।’

সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, মনোনয়ন দেওয়ার সময়ও একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল। দলের চেয়ারম্যান সুষ্ঠু তদন্তের পর তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ায় ওই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়। এখন আবার একই পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, ‘যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাঁরা শুধু আমার ক্ষতি করছেন না; তাঁরা শহীদ জিয়ার পরিবারেরও ক্ষতি করছেন। তাঁরা চান না এই আসনে জাতীয়তাবাদী দলের এমপি হোক।’

নেতা-কর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সজাগ থাকবেন, সতর্ক থাকবেন, ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। কোনো শক্তি নেই, যারা শহীদ জিয়ার পরিবারের ক্ষতি করবে, আমার অস্তিত্বের ক্ষতি করবে, আমাকে হেয় করবে।’

এর আগে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৮০ দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দেন।

সভায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হওয়ার পর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ আসনে বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাঁদের দাবি, ওই পক্ষের অসহযোগিতা সত্ত্বেও ধানের শীষ প্রতীকে রোকন উদ্দিন বাবুল জয়ী হন।

তৃণমূলের নেতাদের অভিযোগ, অল্প সময়ে সংসদ সদস্যের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি পক্ষ তাঁর বিরোধিতা করে ‘ষড়যন্ত্র’ করছে এবং এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।