লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই স্বামী দীন ইসলামের (২৪) বিরুদ্ধে। হত্যার পর আজ সোমবার গাজীপুর থেকে লাশবাহী গাড়িতে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ এনে দীন ইসলামের গ্রামের বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে যায়। এর আগে গতকাল রোববার গাজীপুরের কোনাবাড়ির একটি ভাড়া বাসায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
নিহত ওই গৃহবধূর নাম আফরোজা বেগম (১৮)। তিনি উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে ও ওই এলাকার দীন ইসলামের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, এক বছর আগে চলবলা নিথক গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) সঙ্গে বিয়ে হয় আফরোজার। বিয়ের পর কাজের সুবাদে গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন ওই দম্পতি। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। প্রায় সময়ই কলহ লেগে থাকতো এবং আফরোজার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। এরই মধ্যে আফরোজা ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হন।
সর্বশেষ গত শনিবার রাতে আফরোজা তাঁর বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।’ এ কথা বলার পরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর কিছু সময় পরে দীন ইসলাম তাঁর শ্বশুরকে আবার ফোন করে জানান, ‘আফরোজা অসুস্থ, তাঁকে হাসপাতালে নিতে হবে। টাকা পাঠান তাঁর চিকিৎসা করাতে হবে।’ টাকা পাঠানো দেরি হলে তাঁরা জানান—আফরোজা মারা গেছে। আজ সকালে একটি লাশবাহী গাড়ি থেকে আফরোজার রক্তাক্ত মরদেহ দীন ইসলামের বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে সবাই বাড়ি থেকে সটকে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, সকালে একটি লাশবাহী গাড়িতে আফরোজার রক্তাক্ত মরদেহ এনে উঠানে ফেলে গাড়িটি চলে যায়। তাঁর মরদেহের সঙ্গে স্বামী বা তাঁর বাড়ির লোকজন ছিলেন না। মরদেহের পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
আফরোজার চাচাতো বোন শাপলা বেগম বলেন, গাজীপুরের বাসায় আফরোজাকে তাঁর স্বামী দীন ইসলাম কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে। শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আঘাত করেনি। আমাদের কাছে চিকিৎসার টাকা দাবি করেছিল। আমরা দেইনি, তাই তাঁরা মরদেহ এনে বাড়ির উঠানে ফেলে পালিয়েছে। হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা লাশের সঙ্গে পাঠানো ঢাকা উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালের কাগজপত্র যাচাই করছি। ওই কাগজে দাবি করা হয়েছে বিষপানে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে আমরা গভীর তদন্ত করছি। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’