হোম > সারা দেশ > লালমনিরহাট

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় রণক্ষেত্র আদিতমারী: এসপি ওসিসহ আহত ২০

লালমনিরহাট প্রতিনিধি 

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ পুলিশের ওপর হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ছবি: আজকের পত্রিকা

সাত বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার একটি গ্রাম। এতে পুলিশ সুপার (এসপি), ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) গাড়িসহ প্রশাসনের সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন ওই এলাকার রণজিৎ কুমার ও তাঁর ছেলে বিধান চন্দ্র রায় (২২)। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদিতমারী উপজেলায় আসামিকে ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে মব সৃষ্টি করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গতকাল সোমবার বিকেল থেকে শিশুটিকে (৭) খুঁজে পাচ্ছিল না তার পরিবার। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি। সকালেও খুঁজতে বের হয় তার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে শিশুটির বাড়ির পাশে একটি ভুট্টাখেতে নরম মাটি দেখে সন্দেহ হয় তাদের। এরপর নরম মাটির ওই গর্ত খুঁড়ে শিশুটির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এদিকে স্থানীয় একজন গতকাল সন্ধ্যায় বিধান চন্দ্র নামের এক যুবককে ওই ভুট্টাখেত থেকে কোদাল নিয়ে ফিরতে দেখেছিলেন। সেই সন্দেহে তাঁর বাড়িতে যায় বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা ওই বাড়ি ভাঙচুর করে ভেতরে ঢুকে বিধানকে আটক করে। তখন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ বিধানকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় অভিযুক্ত বিধানকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরা বিচার করার দাবিতে মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে জনতা। খবর পেয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে গেলে তিনিও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। একে একে সদর থানা, কালীগঞ্জ থানা, ডিবি থানা-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করে। বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরও অবরুদ্ধ করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো গ্রাম।

তাদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমামসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাঁদেরও অবরুদ্ধ করা হয়। এভাবে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন। এ সময় থেমে থেমে প্রশাসনের ওপর হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

অবশেষে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে অভিযুক্ত আটক বিধান ও তাঁর বাবাকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন প্রশাসনের লোকজন। এ সময় শেষ দফায় প্রশাসনের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে বিক্ষুব্ধ জনতা। জনতার ছোড়া ইটপাটকেল ও লাঠির আঘাতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হকসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মাদকসেবী বিধান চন্দ্র প্রতিবেশী শিশুটিকে ভুট্টাখেতে নিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে মাটিতে পুঁতে রাখেন। গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের বাড়ির বাইরে তালা দিয়ে ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন তিনি।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সকাল থেকে আমি নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। ইটের আঘাতে আমি নিজেও আহত হয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও তার বাবাকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কাজে বাধাদানের ঘটনায়ও একটি মামলা করা হবে।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক বলেন, নৃশংস এ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আপাতত ওসিকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ভুট্টাখেত থেকে ৭ বছরের শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ

আদিতমারীতে লাদেন হত্যা মামলায় বাবা-ছেলের আত্মসমর্পণ

হাতীবান্ধায় পুশ ইন ঠেকাল বিজিবি, পিছু হটল বিএসএফ

‘গাঁজাখোর’ বলার অভিযোগে কিশোরকে হত্যা, লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ

লালমনিরহাটে তুচ্ছ ঘটনার জেরে তরুণকে হত্যার অভিযোগ

ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই ভাই নিখোঁজ, চলছে উদ্ধার অভিযান

এবার মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পুশ ইনের চেষ্টা বিএসএফের

পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ: লালমনিরহাটের চার সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

লালমনিরহাটের ৪ সীমান্তেও পুশ ইনের চেষ্টা বিএসএফের, প্রতিহত করল বিজিবি ও স্থানীয়রা