লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় বিচারের দাবিতে এক যুবকের মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর-লালমনিরহাট মহাসড়কের আন্তজেলা মোড়ে এ অবরোধ করেন তাঁরা। এ সময় সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
জানা গেছে, পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াপাড়া এলাকার ফিরোজ হোসেন ও বড় ভাই ফেরদৌস হোসেনের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে কয়েক দিন ধরে বিরোধ চলছে। এরই মধ্যে গত শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় বাড়ির পাশের একটি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ফেরদৌস হোসেনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয় ছোট ভাই ফিরোজের।
স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, সালিস বৈঠকে ফিরোজকে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সামলু ইসলাম ধমক দিয়ে মারপিট করেন। এতে ফিরোজ অপমানিত হয়ে বাড়িতে চলে যান। মারধরের শিকার ফিরোজ অপমান সহ্য করতে না পেরে বিষ পান করেন। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে রংপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফিরোজ।
তবে পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, প্রায় ৩ ঘণ্টা পর ফিরোজ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে আবারও যুবদল নেতা সামলু, সামলুর ভাই পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহিন শাই, শাহিন শাইয়ের ছেলে তুহিন ইসলামসহ কয়েকজন ফিরোজকে বেধড়ক মারপিট করেন। এতে ফিরোজের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বিকেলে মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নেননি বলে অভিযোগ করেন ফিরোজের পরিবার।
আজ সন্ধ্যায় বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে ফিরোজের পরিবার ও এলাকাবাসী বুড়িমারী স্থলবন্দর-লালমনিরহাট মহাসড়কের আন্তজেলা মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে বিএনপি, জামায়াতের উপজেলা ও পৌর শাখার নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে ও বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে দূরপাল্লার নৈশ কোচ, বাস, মাইক্রোবাস, পণ্যবাহী শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ৯টায় ফিরোজের বড় ভাই বাদী হয়ে ৩ জনের নামে মামলা করেন।
পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত রায় বলেন, ‘হাসপাতালে শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ভর্তি করা হয়। তাঁর (ফিরোজ) বিষ খাওয়ার পরিমাণ বেশি ছিল। প্রথম থেকেই অবস্থা ভালো ছিল না। আমরা রংপুরে নিতে বলেছি, ফিরোজের স্বজনেরা নিয়ে যায়নি। পরে রাত সাড়ে ১১টার পর অবস্থা বেশি খারাপ হলে রংপুরে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।’
এ ব্যাপারে পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল বলেন, ‘দুষ্কৃতকারী হোক, অপরাধী হোক, সে যে দলেরই হোক তাঁর কোনো ছাড় নাই। আমার দলের কারও যদি নাম আসে, তাঁকেও ছাড় দেওয়া হবে না।’
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘গতকাল কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি, নিহতের পরিবারের লোকজন কথা বলতে এসেছিল। অভিযোগসহ আসতে চেয়ে পরে আসেনি। আজ (সোমবার) রাতে অভিযোগ পেয়েছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’