ন্যায্যমূল্যে চাহিদামতো সারের দাবিতে রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন লালমনিরহাটের চাষিরা। আজ রোববার দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর এলাকায় বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) গুদামের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, চলতি আমন মৌসুমের শুরু থেকে লালমনিরহাটে ন্যায্যমূল্যে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলার ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট এর জন্য দায়ী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলার পরও এই সংকট দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমনের মধ্যবর্তী সময়ে খেতে সার প্রয়োগ আবশ্যক হওয়ায় ক্রেতার চাপ বেড়েছে ডিলার পয়েন্ট ও খুচরা বিক্রি পয়েন্টে।
কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার এক-দশমাংশ সারের জন্য দিনভর বিক্রির পয়েন্টে লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে কৃষকদের। এরপরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সার। আবার কালোবাজারে একটু দাম বেশি দিলেই সার মিলছে।
আজ সকালে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর এলাকার বাফার গুদাম এলাকায় একজন ডিলার সার বিক্রি শুরু করেন। এতে কৃষকদের চাহিদা ৪০ কেজির হলেও দেওয়া হয় মাত্র পাঁচ থেকে সাত কেজি। কেউ কেউ তা-ও পাচ্ছেন না। চাহিদামতো সার না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা একপর্যায়ে ওই ডিলার পয়েন্টের বিক্রেতাদের ধাওয়া দেন।
পরে কৃষকেরা রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন। এ সময় কৃষকেরা ডিলার ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। খবর পেয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে ওই পয়েন্টে আবারও সার বিক্রি শুরু হলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
মহেন্দ্রনগর এলাকার কৃষক সাহেব আলী বলেন, ‘টানা তিন দিন পর আজ সকালে ডিলার দোকান খুলেছিল। তখন চাহিদার তুলনায় অনেক কম সার দেওয়া হচ্ছিল। অল্প সার দিয়ে তো কোনো কাজ হচ্ছে না, আবাদ নষ্ট হচ্ছে সারের অভাবে। সরকার বলে—পর্যাপ্ত সার রয়েছে; আমরা কিনতে গেলে ডিলারেরা বলে—সার কম, কম করে নিতে হবে।’
লালমনিরহাট জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, জেলার সব বিক্রি পয়েন্টে পর্যাপ্ত সার রয়েছে, কোনো সংকট নেই। বৃষ্টির কারণে সার বিক্রি সাময়িক বন্ধ রাখায় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী বিশৃঙ্খলা করতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিল। ওই পয়েন্টে ৩০০ বস্তা সার মজুত ছিল, সেখানে সার নিতে এসেছিলেন ৫০ জনের মতো কৃষক।
অন্য দিকে একই দিন কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের সার বিক্রেতা মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের পয়েন্ট থেকে ১০ বস্তা সার নিয়ে একটি ভ্যান আদিতমারী উপজেলার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা ভ্যানটি আটক করে ওই ডিলার পয়েন্টে ফেরত নিয়ে যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) খবর দেন। পরে ইউএনও সাইফুল ইসলাম কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিলার নয়নকে পুলিশি হেফাজতে নেন। এ সময় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া ১০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের বিক্রি পয়েন্ট ও গুদাম সিলগালা করা হয়।
কাকিনা এলাকার কৃষক হিটলার বলেন, ‘কৃষকেরা সার পাই না। এক বস্তা চাইলে দেয় পাঁচ কেজি। অথচ ডিলার নিজে গাড়ি করে ১০ বস্তা পাচার করছে পাশের উপজেলায়। কালোবাজারে বেশি টাকা দিলে সার মিলে। এভাবে কালোবাজারে পাচার হচ্ছে সার।’
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, ‘১০ বস্তা সারসহ নয়ন নামের একজন আমাদের হেফাজতে রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কালীগঞ্জের ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, পাচারের উদ্দেশ্যে যাওয়া ১০ বস্তা সারসহ বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলার নয়নকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে গিয়ে নয়নকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।