লালমনিরহাটের পাটগ্রামে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে অতিষ্ঠ লোকজনেরা নিরবচ্ছিন্ন ও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে এবং লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে। বুধবার (১৭ জুন) বিকেল ৬টায় এ মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। গত তিন দিনে এ সমস্যা প্রকট হয়েছে শহরের তুলনায় গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহের অবস্থা আরও ভয়াবহ। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত বিদ্যুতের আসা-যাওয়া চলতেই থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করতে হয় চার্জার লাইট বা মোমবাতির মৃদু আলোতে। ঘন ঘন লোডশেডিং এবং প্রতিদিন দিনে ও রাতে ২০ থেকে ২৫ বার বিদ্যুতের যাওয়া-আসায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) পাটগ্রাম ও বুড়িমারী কার্যালয় সূত্র জানায়, পাটগ্রাম উপজেলায় ৫৩ হাজার ৬৩৫ জন বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে পাটগ্রাম কার্যালয়ের অধীনে ৩৫ হাজার ও বুড়িমারী কার্যালয়ের অধীনে ১৮ হাজার ৬৩৫ জন। এ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার সেচ পাম্প গ্রাহক রয়েছেন। প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যায় অর্ধেক। এ কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
লোডশেডিংয়ে ভোগান্তির শিকার গ্রাহকেরা আজ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। উপজেলার রসুলগঞ্জ হাটবাজারের পশ্চিম চৌরঙ্গী মোড়ে বিকেল সাড়ে ৫ টায় উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে আয়োজিত মাননবন্ধনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীরা ছাড়াও সাধারণ জনসাধারণ অংশ নেয়।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল, জামায়াতের উপজেলা প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মাসুদ আলম, এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক ওমর ফারুক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিসমিল্লাহ্ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল আকবার বিন আফসার, জীবনের আলো সমাজকল্যাণ সংগঠনের সভাপতি আশরাফুল আলম প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে পাটগ্রাম উপজেলায় বিদ্যুতের মেগাওয়াট বৃদ্ধির দাবি জানান। নেসকো অফিসে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের কেউ ইচ্ছাকৃত লোডশেডিং দিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়। লোডশেডিং না কমানো হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
এ ব্যাপারে বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগ নেসকো বুড়িমারী কার্যালয়ের প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘ লোডশেডিং হোক আমরাও চাই না। বড় পুকুরিয়ার একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ত্রুটির কারণে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বরাদ্দ কমেছে। এ জন্য লোডশেডিং বেড়েছে। সমাধানে কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে।
নেসকো পাটগ্রামের সহকারী প্রকৌশলী উবায়দুল আল মেহেদী বলেন, চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ কম পাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।