বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ধরলা নদীতে নৌকায় বালু ও পাথর উত্তোলনের সময় বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে বিএসএফ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের ১৫ গজ ভেতরে বাংলাদেশ অংশে এসে কোনো কারণ ছাড়াই গুলি ছুড়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশিদের চারটি নৌকা নিয়ে গেছে তারা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বুড়িমারী এলাকার নদীতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ধরলা নদীর বাংলাদেশ অংশে কয়েকজন ব্যক্তি অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু ও পাথর উত্তোলন করছিলেন। তাঁদের দেখে ২০-২৫ জন বিএসএফ সদস্য নদীতীরে এসে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছোড়েন। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গুলি ছোড়ার প্রতিবাদ জানিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবিও।
সীমান্ত ও বিজিবি সূত্র জানায়, গুলি ছোড়ার পর বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশিদের চারটি নৌকা নদী থেকে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনা জানার পর বুড়িমারী শ্রীরামপুর এলাকার তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) পঁয়ষট্টিবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তাঁরা গুলি ছোড়ার প্রতিবাদ জানিয়ে পানিশালা ক্যাম্পের বিএসএফ কমান্ড্যান্টকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানান।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঘটনাস্থলের পাশে বুড়িমারী ও চ্যাংড়াবান্দা কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গুলি ছোড়ার প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। তবে বৈঠকের বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার রেজাউল করিম।
পরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, বাংলাদেশি নাগরিকেরা অবৈধভাবে সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী স্থান হতে প্রায় ২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে বরমতল নামক স্থানে গেলে বিএসএফের পানিশালা ক্যাম্পের সদস্যরা ৫ রাউন্ড ফাঁকা ফায়ার করে। এ সময় ৪টি নৌকা ক্যাম্পে নিয়ে গেছে বিএসএফ। বিষয়টি ইউএনও এবং ওসিকে জানানো হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘটনার সময় উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বালু ও পাথর উত্তোলনকারী বাংলাদেশিরা ভারতের অভ্যন্তরে যাননি।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নদীতে নেমে বিএসএফ সদস্যরা নৌকাগুলোতে আঘাত করে ভাঙচুর করছেন। শেষে কয়েকটি নিয়ে যেতেও দেখা যায়।
তিস্তা ব্যাটালিয়ন-২ এর (৬১ বিজিবি) সহকারী পরিচালক (এডি) কারিমুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে বিএসএফ গুলি ছোড়ায় বিজিবি প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ব্যাপারে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে বলে শুনেছি। আমি বাইরে থাকায় বিস্তারিত বলতে পারছি না।