ওমরাহ হজ পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লক্ষ্মীপুরের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন। নিহত ব্যক্তিদের বাড়ি রামগঞ্জের ভাটরার পাঁচমুখী এলাকায়। নিহতরা হলেন মিজানুর রহমান (৪৫), তাঁর স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমি (৩৬), দেড় বছরের শিশুকন্যা সুবাহ আক্তার ও বড় মেয়ে মোহনা আক্তার (১৩) এবং তাঁদের গাড়িচালক হোসেন মোহাম্মদ জিলানী (৩০)। এ ছাড়া অপর আরেক মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) গুরুতর আহত হয়েছে। রোববার রাতে সৌদির আবহা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের এতগুলো সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়ে মিজানুর রহমানের মা খুকি বেগম ও বাবা শহিদ উল্যাহ বারবার অচেতন হয়ে পড়ছেন। তাঁদের যাঁরা সান্ত্বনা দিতে আসছেন তাঁরাও কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
নিহত মিজানুর রহমানের বড় ভাই বাহারুল আলম জানান, ছোট ভাই মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের আবহা শহরে হোটেল ব্যবসা করছিলেন। চলতি মাসের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি (মিজানুর) স্ত্রী ও কন্যাদের নিয়ে পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরবে যান। সৌদি আরবের সময় রোববার দিবাগত রাত প্রায় ৩টায় পবিত্র হজ পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে আবহা এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। লাশ দেশে আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলে সার্বিক সহযোগিতা করব।’
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনামকে এ বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।