হোম > সারা দেশ > লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরে হত্যা মামলায় জামায়াত নেতা কারাগারে

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি 

আবু বকর ছিদ্দিক। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরে সালেহা বেগম হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আবু বকর ছিদ্দিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আবু বকর ছিদ্দিক জেলার কমলনগর উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন। তিনি ওই ইউনিয়নের চরসামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সালেহা বেগম নামের এক বৃদ্ধ নারীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আবু বকর চার্জশিটভুক্ত আসামি। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারীকে তিনি গোপনে বিয়ে করেছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, জমি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে মো. সেলিম নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে ২০২৫ সালের ১৫ জুন রাতে সালেহা বেগমকে হত্যা করানো হয়।

২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটায় সালেহা বেগমের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

কমলনগর থানা-পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করে সেলিম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেলিম বলেন, সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গলা টিপে অচেতন করার পর তিনি ধর্ষণ করেন এবং শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

সেলিমের জবানবন্দি অনুযায়ী, সালেহা বেগমের সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়েছিল। জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে আবু বকর ৩০ লাখ টাকা নেন। তবে জমি কিনে না দিয়ে উল্টো আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সালেহাকে হত্যার জন্য সেলিমকে ভাড়া করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।

সেলিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে থানা-পুলিশ সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়।

সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। হত্যা মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী সালেহা বেগমের ছেলে মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আসামি আবু বকর ছিদ্দিক লম্পট প্রকৃতির। এ পর্যন্ত সাতটি বিয়ে করেছে। অর্থের লোভে পড়ে আমাদের অজান্তে সে আমাদের মাকেও বিয়ে করে। একপর্যায়ে আবার ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সে ভাড়াটে লোক দিয়ে আমাদের মাকে হত্যা করিয়েছে। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি, এ দুই আসামির যাতে মৃত্যুদণ্ড হয়।’

লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে, বিচার চাইলেন বৃদ্ধ বাবা

স্বপ্ন ফিরল কফিনে, লক্ষ্মীপুরে সহোদরকে চিরবিদায়

ভরা মৌসুমেও মেঘনায় ইলিশের আকাল, হতাশ জেলে-ব্যবসায়ীরা

লক্ষ্মীপুরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৬

এক বছর পরই বিএনপির কাছে জবাবদিহি আশা করবে মানুষ: পানিসম্পদমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুরে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪

মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে প্রাণ গেল লক্ষ্মীপুরের যুবকের

ঘরে অস্ত্র থাকার কথা বলে পুলিশ ডেকে স্বামীকে ফাঁসালেন গৃহবধূ

বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যেতে নিষেধ করায় স্ত্রীর হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার