লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আলোচিত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৪) হত্যা মামলায় শিক্ষক শরীফুল ইসলাম ও শিক্ষার্থী সাজিদুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার ভোররাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মেহেদী হাসান হত্যায় জড়িত সন্দেহে একজন শিক্ষক ও এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
গত ১৬ জুন বিকেলে ফরিদ আহাদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে, বিশেষ করে পিঠ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পর থেকে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী ও স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ, থানা ঘেরাওসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। কর্মসূচি এখনো অব্যাহত রয়েছে।
নিহত মেহেদী রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় ১৮ জুন তার বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান ও সাতজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি আইফোন চুরিকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় মেহেদীর মৃত্যু হতে পারে।
ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নানকে অপসারণ করা হয়। জ্যেষ্ঠ প্রভাষক শরীফুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।