লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বাবার সম্পত্তি জালিয়াতি করে লিখে নেওয়া এবং তা জেনে ফেলায় ছোট ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের বৃদ্ধ বাবা লতিফ পাটোয়ারী তাঁর বড় ছেলের বিচার দাবি করেন।
নিহত শরীফুল ইসলাম রামগঞ্জ পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং রামগঞ্জ উপজেলার রৌশন আলী পাটোয়ারী বাড়ির লতিফ পাটোয়ারীর ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লতিফ পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, তাঁর বড় ছেলে ফারুক হোসেন একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মেজ ছেলে মাসুদ আলমসহ কয়েকজনকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দেন। ওই মামলায় মেজ ছেলে কারাগারে যাওয়ার সুযোগে বড় ছেলে ফারুক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তাঁর ৩৫ শতাংশ সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন। অথচ তিনি নিজে কখনো রেজিস্ট্রি অফিসে যাননি।
মেজ ছেলে কারাগারে থাকাকালীন সম্পত্তি লিখে নেওয়ার এই জালিয়াতির বিষয়টি ছোট ছেলে শরীফুল ইসলাম জেনে ফেলেন। এরপরই বড় ছেলে ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে নিজ ঘরে ছোট ছেলে শরীফুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ বলে অপপ্রচার চালান বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লতিফ পাটোয়ারীর মেজ ছেলে ও কারামুক্ত মাসুদ আলম বলেন, ‘২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ভাই ফারুক আমাকে, ছোট ভাই শরীফুল, আমার স্ত্রী ও শ্যালককে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠান। মূলত সাজানো মামলায় জেলে পাঠিয়ে তিনি বাবার ব্যাংক হিসাবে থাকা আট লাখ টাকাও আত্মসাৎ করেন। পরে সম্পত্তি দখলে নিতে তিনি এই নাটক সাজান। ছোট ভাই এসব পরিকল্পনার কথা জেনে যাওয়ায় চলতি বছরের ৩১ মার্চ শরীফুলকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।’ বড় ভাই ফারুক হোসেনের এসব অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লতিফ পাটোয়ারীর মেয়ে আফরোজা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। যেহেতু এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে, তাই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত চলছে।