হোম > সারা দেশ > লক্ষ্মীপুর

হোমনার লটিয়ায় পাশাপাশি কবরে শায়িত মা ও ৩ মেয়ে, বাকরুদ্ধ একমাত্র জীবিত সন্তান সিফাত

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 

কুমিল্লার হোমনায় পাশাপাশি কবরে শায়িত মা ও তাঁর তিন মেয়ে। ছবি: আজকের পত্রিকা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন মেয়ের লাশ অবশেষে কুমিল্লার হোমনায় এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে হোমনা পৌরসভার লটিয়া ঈদগাহ মাঠে তাঁদের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়। তাঁদের জানাজা পড়িয়েছেন মুফতি সামসুল হক আরিফী। মর্মান্তিক এই ট্র্যাজেডিতে পুরো উপজেলায় এখন গভীর শোকের ছায়া।

জানাজায় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেন। তবে জানাজাস্থলে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।

এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে একমাত্র জীবিত সন্তান মো. সিফাত। ঘটনার সময় সে বাসার বাইরে থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এই কিশোরই ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে একা হাতে মা ও তিন বোনের লাশ হোমনায় নিয়ে আসে। লাশগুলো বাড়িতে এলে পুরো গ্রামবাসী ও স্বজনেরা জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। মা-বোনদের হারিয়ে সিফাত এখন পুরোপুরি বাকরুদ্ধ।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের একটি ভবনের পাঁচতলার ভাড়া বাসায় ঢুকে শাহীনূর আক্তার (৩৮) ও তাঁর তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে সাবেক ভাড়াটিয়া অন্তর মজুমদার। ঘটনাস্থলেই মা ও দুই বোন সায়মা আক্তার (২১) ও সিফা আক্তার (১০) মারা যান।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মেজ বোন ও চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরা আক্তারও (১৮) মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘাতক অন্তরও উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে মারা গেছে।

দীর্ঘ ৩০ বছর রায়পুরে থেকেও শেষ পর্যন্ত নিজ ভূমিতেই পাশাপাশি চার কবরে ঠাঁই হলো এই পরিবারের চার সদস্যের।