কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে গিয়ে তুমুল হট্টগোলের মুখে পড়েন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি আমির হামজা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রধান অতিথি হিসেবে কলেজ মাঠে আয়োজিত আন্তবিভাগ মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন সংসদ সদস্য আমির হামজা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’র ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী মঞ্চের সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।
পরে টুর্নামেন্ট উদ্বোধনের জন্য তিনি মাঠে গেলে শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েও তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ করেন এবং মাঠে বসে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কলেজের অধ্যক্ষ তাঁকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষের সামনেও অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এমপি আমির হামজা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়, ‘কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালে মাননীয় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।’ পোস্টের শেষে ‘এডমিন’ উল্লেখ ছিল।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে আমির হামজার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন রাব্বী। তিনি বলেন, ‘গাছ কেটে মঞ্চ তৈরি করার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। এখানে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার সরকারি কলেজে আন্তবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাঠ পরিষ্কার করতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধনে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিকার এবং জড়িতদের শাস্তি দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোল্লা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘এমপি মহোদয় আন্তবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানকার অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি আমার কক্ষে ছিলেন। তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঠিক না।’ গাছ কাটার ব্যাপারে তিনি জানান, কীভাবে এবং কারা করেছে তা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর আজকের পত্রিকাকে বলেন, খবর পেয়ে তিনি ফোর্স নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি আমির হামজাকে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করতে দেখেন। তবে আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন ওসি। তিনি বলেন, আমির হামজা অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে তাঁর সঙ্গেই বেরিয়ে আসেন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে চলে যান।